বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রথমবার পৃথিবীর কক্ষপথে যাচ্ছে স্টারশিপ, সঙ্গে ২৬ স্টারলিংক স্যাটেলাইট

২২ সেপ্টেম্বর ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পরিকল্পনা স্পেসএক্সের • মহাকাশে পৌঁছে ছয়বার পৃথিবী প্রদক্ষিণের লক্ষ্য


মহাকাশ প্রযুক্তিতে নতুন এক মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে ইলন মাস্কের স্পেসএক্স। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও শক্তিশালী রকেট ব্যবস্থা ‘স্টারশিপ’কে প্রথমবারের মতো পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর স্টারশিপের ১৪তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন অনুষ্ঠিত হবে।

স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে প্রতিষ্ঠানটির স্টারবেস থেকে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে ৭৫ মিনিটের উৎক্ষেপণ-উইন্ডো শুরু হবে। তবে চূড়ান্ত উৎক্ষেপণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

এবারের মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য স্টারশিপের ওপরের অংশকে পৃথিবীর কক্ষপথে স্থাপন করা। আগের ১৩টি পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে স্টারশিপ মহাকাশে গেলেও পূর্ণাঙ্গ কক্ষপথে প্রবেশ করেনি। ফলে ১৪তম পরীক্ষাটি সফল হলে স্টারশিপ কর্মসূচির জন্য তা বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে।

মিশনটিতে শুধু রকেট পরীক্ষা নয়, বাস্তব স্যাটেলাইটও বহন করবে স্টারশিপ। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় প্রজন্মের ২৬টি ‘স্টারলিংক ভি৩’ স্যাটেলাইট পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে স্থাপন করা হবে। স্টারশিপ ব্যবহার করে কার্যকর কক্ষপথে স্যাটেলাইট মোতায়েনের এটিই হবে প্রথম প্রচেষ্টা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্টারশিপ পৃথিবী থেকে প্রায় ২৭৫ কিলোমিটার উচ্চতার কক্ষপথে যাবে। প্রায় ১০ ঘণ্টার মিশনে এটি পৃথিবীকে প্রায় ছয়বার প্রদক্ষিণ করবে। এরপর কক্ষপথ থেকে বেরিয়ে এসে চিলির পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিতভাবে অবতরণের লক্ষ্য রয়েছে।

এর আগে জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত ১৩তম পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে স্টারশিপের ওপরের অংশ কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি। তবে উড্ডয়নের বিভিন্ন ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে ভারত মহাসাগরে পরীক্ষামূলক অবতরণ করেছিল। ওই পরীক্ষায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নতুন মিশনের জন্য স্টারশিপের তাপ সুরক্ষা ব্যবস্থায় আরও পরিবর্তন এনেছে স্পেসএক্স।

সুপার হেভি বুস্টারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগের পরীক্ষায় স্টারশিপ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বুস্টারের ইঞ্জিন পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই ত্রুটি মোকাবিলায় এবার একাধিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

তবে ১৪তম উড্ডয়নে স্টারশিপ বা সুপার হেভি বুস্টারকে লঞ্চ টাওয়ারের যান্ত্রিক বাহু দিয়ে ধরে ফেরত আনার চেষ্টা করা হবে না। এবারের পরীক্ষায় মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিরাপদে কক্ষপথে পৌঁছানো, স্যাটেলাইট মোতায়েন, কক্ষপথ ত্যাগ এবং নিয়ন্ত্রিত পুনঃপ্রবেশের ওপর।

স্পেসএক্স দীর্ঘমেয়াদে স্টারশিপকে সম্পূর্ণ ও দ্রুত পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনায় ভবিষ্যতে ফ্যালকন ৯ ও ফ্যালকন হেভির অনেক মিশনের জায়গা নেবে স্টারশিপ।

সে কারণে ২২ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষা শুধু আরেকটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ নয়; স্টারশিপকে নিয়মিত কক্ষপথভিত্তিক মহাকাশ পরিবহন ব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার পথে এটি স্পেসএক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন