রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খালেদা জিয়ার নাম ভাঙিয়ে কোটিপতি প্রতারকের ৫ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করল সিআইডি

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার লিয়াজোঁ অফিসার পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এক ব্যক্তির ৫ কোটি টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করেছে সিআইডি।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদালত প্রতারক মোতাল্লেছ হোসেনের বিদেশ গমনেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

সিআইডির প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পল্লবী থানায় দায়ের করা মানিলন্ডারিং মামলার অগ্রগতির অংশ হিসেবে এ অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয়। আদালতের পারমিশন পিটিশন নং ৭৫৮/২০২৫, আদেশ নং ০২, তারিখ ০৯/১০/২০২৫ মূলে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।

বাজেয়াপ্ত অর্থ মোট ৫ কোটি টাকা, যা অভিযুক্তের আটটি ব্যাংক হিসাবে সংরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে—

  • আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-তে ১টি,
  • সিটি ব্যাংক পিএলসি-তে ২টি,
  • প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি-তে ২টি,
  • শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-তে ২টি এবং
  • সোনালী ব্যাংক পিএলসি-তে ১টি অ্যাকাউন্টে অর্থগুলো ফ্রিজ করা ছিল।

তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, মোতাল্লেছ হোসেন নিজেকে খালেদা জিয়ার লিয়াজোঁ অফিসার পরিচয়ে ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রভাব ও প্রতিশ্রুতির নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করতেন।

তিনি কখনও গার্মেন্টস মালিক, কখনও চা-বাগান উদ্যোক্তা, আবার কখনও ঠিকাদারি ব্যবসায়ী পরিচয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তদন্তে দেখা গেছে, তার ব্যাংক হিসাবগুলোতে প্রায় ২০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ রয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসা খরচের’ নামে প্রায় ১৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাৎ করেছেন।

এ ছাড়া তদন্তে জানা যায়, তার প্রতিষ্ঠানের নাম “এম এল ট্রেডিং”, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে অস্তিত্বহীন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও কোনো ব্যবসায়িক কার্যক্রম বা আমদানি-রপ্তানির প্রমাণ মেলেনি।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২)/৪(৪) ধারা অনুযায়ী পল্লবী থানায় মামলা (নং ১৯) দায়ের করা হয়। মামলায় মোতাল্লেছ হোসেনসহ অজ্ঞাত আরও দুই–তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

সিআইডি জানিয়েছে, চাঁদাবাজি ও প্রতারণার এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন,

“রাষ্ট্রবিরোধী পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎকারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে সিআইডি দৃঢ়ভাবে কাজ করছে, এবং এ ধরনের অপকর্মে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন