শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বাজারভিত্তিক ডলার বিনিময় হারের প্রথম দিনে স্থিরতা, খোলাবাজারে সামান্য ঊর্ধ্বগতি

বাজারভিত্তিক ডলার বিনিময় হারের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার ব্যাংকিং খাতে ডলারের দরে বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমদানি-রপ্তানি এবং রেমিট্যান্স লেনদেনে ডলারের দর আগের দিনের মতোই ছিল। তবে খোলাবাজারে বা মানিচেঞ্জারদের দরে সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।

ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোর মধ্যে একে অপরের কাছ থেকে ডলার কেনাবেচা হয়েছে ১২২ টাকা দরে। রেমিট্যান্স ডলার কেনা হয়েছে ১২১ টাকা থেকে ১২১ টাকা ৭০ পয়সা দরে, আর আমদানিকারকদের কাছে বিক্রি হয়েছে ১২২ থেকে ১২২ টাকা ৭০ পয়সায়। নগদ ডলার কেনা হয়েছে ১২২ টাকায় এবং বিক্রি হয়েছে ১২৩ টাকায়।

এদিকে খোলাবাজারে ডলারের দর আগের দিনের তুলনায় সামান্য বেড়ে ১২৬ টাকায় উঠেছে। মানিচেঞ্জাররা বৃহস্পতিবার ডলার কিনেছেন ১২৫ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৬০ পয়সায় এবং বিক্রি করেছেন ১২৬ টাকায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় রেফারেন্স রেট ছিল ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা, যা বিকেলে সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ১২১ টাকা ৯৯ পয়সায়। এর আগের দিন একই সময়ে দর ছিল যথাক্রমে ১২১.৯৯ এবং ১২১.৯৩ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, “বাজারভিত্তিক হার চালুর প্রথম দিনে ডলারের দরে কোনো বড় অস্থিরতা দেখা যায়নি। রেমিট্যান্সের প্রবাহ ভালো থাকায় বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি।”

তিনি আরও জানান, ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে প্রতিদিন দুপুর ও বিকেলে ডলারের গড় দর নিয়ে রেফারেন্স রেট নির্ধারণ করা হবে। কোনো ব্যাংক রেফারেন্স রেট থেকে অতিরিক্ত দরে লেনদেন করলে ব্যাখ্যা দিতে হবে।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাজারভিত্তিক হার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। তবে নিশ্চিত করতে হবে—কোনো ব্যাংক যেন এটিকে অপব্যবহার না করে। অপ্রয়োজনে বেশি দামে ডলার কেনাবেচা হলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর কাছে নগদ ডলার মজুত রয়েছে প্রায় ৫ কোটি, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে নগদ ডলার নিয়ে এখনই উদ্বেগের কিছু নেই।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ডলারের মোট আন্তঃব্যাংক লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪১ লাখ ডলার।

অপরদিকে, আইএমএফের শর্ত পূরণের অংশ হিসেবে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, আগামী জুনের মধ্যে আইএমএফের ঋণের দুটি কিস্তির ১৩০ কোটি ডলার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার ২২০ কোটি ডলার মিলবে, যা রিজার্ভকে আরও শক্তিশালী করবে।

এর আগে গত বছর ‘ক্রলিং পেগ’ পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে একবারে ৭ টাকা বাড়িয়ে ডলারের মধ্যবর্তী দর নির্ধারণ করা হয়েছিল ১১৭ টাকা। তখন সীমিত আকারে দর ওঠানামার সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে গত জানুয়ারিতে মৌখিক নির্দেশনায় সর্বোচ্চ ১২২ টাকায় কেনা ও ১২৩ টাকায় বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল, যা এখন তুলে নেওয়া হয়েছে।

বুধবার ডলার বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করার ঘোষণা দেওয়ার আগে সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল সভা করেন। সেখানে তিনি দুবাইভিত্তিক এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “রেমিট্যান্সের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিদেশি কোনো বকেয়া নেই, ফলে বাজারে অস্বাভাবিক কিছু ঘটার আশঙ্কা নেই। তবু কোনো সমস্যা দেখা দিলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন