রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

শাপলা চত্বরের মামলায় দুই সাংবাদিকসহ আট আসামিকে গ্রেপ্তার দেখাল ট্রাইব্যুনাল

ঢাকা, ১৬ আগস্ট ২০২৬:

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও দুই সাংবাদিকসহ আট আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

রোববার মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়ার পর আসামিদের বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। মামলার ৪১ আসামির মধ্যে সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ নয়জনকে এদিন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে লতিফ সিদ্দিকী ছাড়া বাকি আটজনকে শাপলা চত্বরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। লতিফ সিদ্দিকী আগে থেকেই এই মামলায় গ্রেপ্তার অবস্থায় আছেন।

গ্রেপ্তার দেখানো আট আসামি

ট্রাইব্যুনালের আদেশে শাপলা চত্বরের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আটজন হলেন—

  • সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি
  • সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শামসুল হক টুকু
  • পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক
  • সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান
  • একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির
  • একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু
  • একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা
  • পুলিশের সাবেক ডিআইজি মোহা. আবদুল জলিল মণ্ডল

আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আসামি মানবতাবিরোধী অপরাধের অন্যান্য মামলায় আগে থেকেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। ফলে শাপলা চত্বরের মামলায় তাঁদের নতুন করে হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি; আদালতের আদেশের মাধ্যমে এই মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

কেন নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হলো

ট্রাইব্যুনাল-সংশ্লিষ্টরা জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলার প্রক্রিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গ্রহণের আগে একটি বিবিধ মামলা বা মিস কেসের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তার দেখানোর সুযোগ থাকে। পরবর্তী সময়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ও তা মূল মামলা হিসেবে গ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট আসামিদের বিরুদ্ধে ওই মামলায় পৃথকভাবে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

শাপলা চত্বরের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল ও আমলে নেওয়ার পর রোববারই প্রথমবারের মতো আট আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

ইনু ও রাজ্জাককে পরবর্তী তারিখে হাজিরের নির্দেশ

মামলার আরও দুই আসামি সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অন্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করছেন বলেও জানা গেছে।

তবে রোববার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়নি। পরবর্তী ধার্য তারিখে তাঁদের হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ৩ সেপ্টেম্বর দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪১ আসামির মধ্যে ৩০ জন এখনো গ্রেপ্তার হননি

শাপলা চত্বরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মোট আসামি ৪১ জন। তাঁদের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছেন।

মামলার ৪১ আসামির মধ্যে ১১ জন বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় আছেন বলে প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে ৩০ আসামি এখনো গ্রেপ্তার হননি

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়েছে, ওই ৩০ আসামির মধ্যে ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি—এমন প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। বাকি ১০ আসামির বিষয়ে এখনো গ্রেপ্তারসংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

এই ৩০ আসামিকে গ্রেপ্তারের অগ্রগতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দাখিলের জন্যও আগামী ৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে দায়ের করা এই মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার আট আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানোর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন