মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

ট্রাম্প সফরের চারদিন পরই বেইজিংয়ে পুতিন, বিশ্ব কূটনীতির নতুন কেন্দ্র কি চীন?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বেইজিং সফর শেষ হওয়ার মাত্র চার দিনের মাথায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন-কে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন। পরপর যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের বেইজিং সফর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৯ ও ২০ মে চীন সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে পুতিনের। সফরের আগে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং পুতিন একে অপরকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

বার্তায় শি জিনপিং বলেন, চীন-রাশিয়ার কৌশলগত অংশীদারত্বের ৩০ বছর পূর্তির এই সময়ে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর ও সুসংহত হয়েছে।

চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম Global Times মন্তব্য করেছে, অল্প সময়ের ব্যবধানে একই দেশে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের সফর স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্বে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বেইজিং দ্রুত বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হচ্ছে।

২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে বেইজিং মস্কোর প্রতি অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন আরও বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে চীনের কাছে রাশিয়ার জ্বালানি গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

Center for Research on Energy and Clean Air-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে চীন রাশিয়া থেকে প্রায় ৩৬৭ বিলিয়ন ডলারের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করেছে। বর্তমানে রাশিয়ার মোট রপ্তানির এক-চতুর্থাংশেরও বেশি চীন একাই কিনছে, যা মস্কোর যুদ্ধ ব্যয় বহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক Atlantic Council-এর সিনিয়র ফেলো জোসেফ ওয়েবস্টার মনে করছেন, পুতিন-শি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হতে পারে তাইওয়ান ইস্যু। ভবিষ্যতে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য উত্তেজনার কথা মাথায় রেখে বেইজিং রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি চুক্তিতে আগ্রহী।

এদিকে বহুদিন ধরে রাশিয়া ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চীনের ওপর জোর দিয়ে আসছে। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে অতিরিক্ত ৫০ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস সরবরাহ সম্ভব হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একদিকে যেমন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মোকাবিলায় রাশিয়াকে সহায়তা করবে, অন্যদিকে বৈশ্বিক সংকটের সময় চীনের জ্বালানি নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী করবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন