বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

বাজেটে কমতে পারে মোবাইল সেবার করের বোঝা, বাতিল হতে পারে পদ্মা সেতুর সারচার্জ

আগামী বাজেটে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবায় করের বোঝা কিছুটা কমতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উদ্বোধনের চার বছর পর পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য মোবাইল সেবায় আরোপিত এক শতাংশ সারচার্জ বাতিলের চিন্তা করছে সরকার। একই সঙ্গে গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে সিম কর ৩০০ টাকা থেকে কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

টেলিকম খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে গত ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মোবাইল খাতে করের চাপ কমবে।

পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন সংকট তৈরি হলে ২০১৬ সালের মার্চে মোবাইল সেবার ওপর এক শতাংশ সারচার্জ আরোপ করে সরকার। ২০২২ সালে সেতুটি চালু হলেও এখনো মোবাইল গ্রাহকদের সেই সারচার্জ বহন করতে হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি ১০০ টাকা রিচার্জে একজন গ্রাহক বিভিন্ন কর ও শুল্ক পরিশোধের পর ব্যবহার করতে পারেন প্রায় ৫৮ টাকার সেবা।

বর্তমানে মোবাইল সেবায় ২৩ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, কার্যকরভাবে প্রায় ১৮ শতাংশ ভ্যাট এবং অতিরিক্ত সারচার্জ কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি নতুন সিম কেনা বা রিপ্লেসমেন্টের ক্ষেত্রেও ৩০০ টাকা কর দিতে হয়। ফলে ভয়েস কল ও মোবাইল ইন্টারনেটের খরচ দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

এ অবস্থায় গ্রাহকরা কলরেট ও ইন্টারনেট খরচ কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। মোবাইল অপারেটরদের ভাষ্য, গত এক দশকে তারা সরকারকে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েছে, যার মধ্যে শুধু সারচার্জ থেকেই আদায় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।

বেসরকারি মোবাইল অপারেটরগুলোর পক্ষ থেকে সিম কর কমানো এবং তরঙ্গ বা স্পেকট্রামের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। চলতি বছর তিনটি বেসরকারি অপারেটরকে প্রায় ১৬ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার তরঙ্গ নবায়ন করতে হবে। এর ওপর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট বাবদ প্রায় ১ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।

খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই স্পেকট্রামের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয় না। অতিরিক্ত করের চাপ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

অন্যদিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতারাও গ্রাহক পর্যায়ে আরোপিত ৫ শতাংশ ভ্যাট শূন্যে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাউটার ও নেটওয়ার্কিং পণ্য আমদানিতে কর ছাড়েরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বর্তমানে দেশে প্রায় দেড় কোটি গ্রাহক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।

সরকারও টেলিকম খাতে কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টারা বলছেন, বিভিন্ন খাতে করের হারে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে, যা সমন্বয় করা প্রয়োজন।

বর্তমানে দেশে চারটি মোবাইল অপারেটর সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি আড়াই হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পরিচালনা করছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন