বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশ্যে পশু জবাইয়ে কড়াকড়ি, নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০ কঠোরভাবে কার্যকরের লক্ষ্যে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। প্রকাশ্য স্থানে পশু জবাইকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে আইনি কসাইখানাগুলোকে নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কলকাতা হাই কোর্ট-এর ২০১৮ সালের ৬ আগস্টের রায় এবং ২০২২ সালের ৮ জুন জারি করা সরকারি নির্দেশিকার আলোকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সব বৈধ কসাইখানাকে নির্দেশনাগুলো “কঠোরভাবে পালন” করতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ এবং মহিষের বাছুরসহ নির্ধারিত প্রাণী জবাই করতে হলে আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জবাই-উপযোগিতা সংক্রান্ত শংসাপত্র নিতে হবে। কোনো প্রাণী শ্রমসাধ্য কাজ বা প্রজননের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়লে, অথবা বয়স, আঘাত, বিকৃতি কিংবা রোগের কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হলে তা জবাইয়ের অনুমোদন পেতে পারে।

এই শংসাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ অনুমোদনের মাধ্যমে। আবেদন বাতিল হলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আপিল করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রাণী কেবল পৌর কসাইখানা বা প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে জবাই করা যাবে। কোনো উন্মুক্ত জনসমাগমস্থলে পশু জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

আইন বাস্তবায়নের স্বার্থে কসাইখানা পরিদর্শনে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে বাধা দেওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ১৯৫০ সালের আইনের আওতায় এ ধরনের অপরাধকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

এদিকে, বিষয়টি ঘিরে রাজ্যজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা, জনস্বাস্থ্য ও আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের স্বার্থেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন