শনিবার, ৯ মে ২০২৬

‘ইরানকে দখল করা অসম্ভব, হরমুজ নিয়ন্ত্রণও সহজ নয়’ — সাবেক মার্কিন কর্নেল ম্যাকগ্রেগর

যুক্তরাষ্ট্রের অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্নেল ডগলাস ম্যাকগ্রেগর বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকায় বিশ্বজুড়ে দেশটির প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত ছিল না।

তুর্কি শিক্ষাবিদ ফুরকান গোজুকারার ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যাকগ্রেগর বলেন, “ইরান সাহসী একটি দেশ। কারণ তারা বিশ্বের বড় শক্তিধরদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তাই অনেকেই ইরানের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং যাদের পক্ষে সম্ভব, তারা ইরানকে সহায়তা করছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইরান পরবর্তী ধাপের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে।”

ইরানের ভৌগোলিক অবস্থানকে বড় সামরিক সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করে সাবেক এই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ সবসময়ই ভৌগোলিক দিক থেকে বিপর্যয়কর হবে। দেশটি বিশাল এক দুর্গের মতো। চারপাশে পাহাড়, দক্ষিণে ভয়ংকর মরুভূমি। কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ সেখানে সহজে অগ্রসর হওয়ার কথা ভাববে না।”

তিনি ইতিহাস টেনে বলেন, “আলেকজান্ডার আংশিকভাবে ইরান দখল করেছিল, মঙ্গোলরা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কেউই স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেনি। বাস্তবতা হলো, আমরা সেই দেশ দখল করতে পারব না।”

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযানের ব্যর্থতা নিয়েও কথা বলেন ম্যাকগ্রেগর। তিনি বলেন, “আমরা বলেছিলাম হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করব। কিন্তু কীভাবে? যদি প্রবেশ ও বহির্গমন পুরোপুরি থামাতে না পারি, তাহলে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ বলা যায় না।”

তার মতে, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থানই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। “ইরানের সীমান্ত সরাসরি হরমুজের সঙ্গে যুক্ত। পারস্য উপসাগরজুড়ে তাদের দীর্ঘতম উপকূল রয়েছে এবং তারা এর অর্ধেকেরও বেশি অংশের ওপর প্রভাব রাখে,” বলেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচনাও করেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা। ম্যাকগ্রেগর বলেন, “ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে হোক বা না হোক, আমাদের এক ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছেন। তিনি আমাদের এমন অবস্থায় নিয়েছেন, যেখানে আমরা ইসরাইল যা চেয়েছে, তাই করতে বাধ্য হচ্ছি। এতে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থানে পড়ে গেছে।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন