বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ইরান অবরোধের আশঙ্কায় তেলের দাম ১২০ ডলার ছাড়াল

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি অবরোধের খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার অতিক্রম করে এবং কিছু সময়ের জন্য তা ১২২ ডলারে পৌঁছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম BBC-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানি পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলা নিয়ে আলোচনার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে জ্বালানি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে Chevron-এর প্রধান নির্বাহী মাইক ওয়ার্থসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠককে তেল ব্যবসায়ীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় কার্যত অচল থাকার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে। প্রণালিটি বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ, যেখানে দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন, ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি, তেলের ফিউচার মার্কেট, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং নৌপরিবহনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এটি জ্বালানি খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের নিয়মিত বৈঠকের অংশ বলেও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে The Wall Street Journal-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান অবরোধ আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বাড়ানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর জবাবে ইরান জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচলে বাধা অব্যাহত রাখবে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই প্রণালিটি কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে ধারাবাহিক ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে এর কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান প্রণালিতে কড়াকড়ি আরোপ করে। পরবর্তীতে তারা সতর্ক করে দেয়, প্রণালির আশপাশে প্রবেশ করা যেকোনো নৌযান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয়, ইরানের বন্দরগামী বা সেখান থেকে আসা নৌযানগুলোকে বাধা দেওয়া হবে।

সাম্প্রতিক অস্থিরতার আগে, ১৭ এপ্রিল ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির পর তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারে নেমে এসেছিল। তবে নতুন করে অবরোধ পরিস্থিতি জোরদার হওয়ায় গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন