বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যায় আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন মেরুকরণের আভাস

ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পর রাজধানীর অপরাধ জগতে নতুন করে মেরুকরণ ও আধিপত্য বিস্তারের ইঙ্গিত মিলছে। হত্যার পেছনের কারণ এখনো স্পষ্ট না হলেও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ঘটনায় বুধবার নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বাদী হয়ে নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে বছিলা এলাকার পশুর হাটের ইজারা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে টিটনের বিরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, শুধু ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্ব নয়, এর পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে।

নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে টিটন ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। পরে সমঝোতার জন্য ডাকার কথাও জানিয়েছিলেন। ঘটনার দিন রাতেই নিউমার্কেট এলাকায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টিটনসহ তালিকাভুক্ত কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিনে কারামুক্ত হন। এরপর টিটন নিয়মিত আদালতে হাজিরা দেননি। তার কার্যক্রম ধানমন্ডি, হাজারীবাগ ও মোহাম্মদপুর এলাকাকেন্দ্রিক ছিল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “মামলার বাদী ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে এটি হত্যার একমাত্র কারণ কি না, তা নিশ্চিত নয়। আমরা সব সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখছি।” তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে মোটরসাইকেলে করে দুজনকে পালিয়ে যেতে দেখা গেলেও তাদের পরিচয় স্পষ্ট হয়নি। শুটারদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন। তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হলে পরিকল্পনাকারীদের দিকেও পৌঁছানো সহজ হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতেও আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। টিটন হত্যার পর আবারও সেই ধরনের অস্থিরতা ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একই সময়ে জামিনে মুক্ত হওয়া একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে নিউমার্কেট এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসসংলগ্ন বটতলায় দুর্বৃত্তরা টিটনকে গুলি করে হত্যা করে। ২০০১ সালে সরকারের করা ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন