পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেতুলিয়াসহ ছয়টি ইউনিয়নের নদীভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপের দাবিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি এবং বাউফল উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) বিকেল ৪টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ড. মাসুদ।
ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “বাউফল উপজেলার নাজিরপুর, ধুলিয়া, কেশবপুর, কালাইয়া, কাছিপাড়া ও চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে। তেতুলিয়া নদীর ভাঙনে হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হয়েছে। মানুষের ঘরবাড়ি, কবরস্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এভাবে হাজারো মানুষ মানবিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।”
তিনি আরও বলেন, “উপদেষ্টা মহোদয়ের কাছে আমাদের দাবিগুলো পেশ করেছি। এর মধ্যে রয়েছে— নাজিরপুরের অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকা জিও ব্যাগ দিয়ে রক্ষার ব্যবস্থা, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলোর মেরামত, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ সাত কিলোমিটার এলাকায় সিসি ব্লক বসিয়ে স্থায়ী ভাঙন প্রতিরোধ, ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং একটি দৃষ্টিনন্দন ইকোপার্ক স্থাপনের প্রস্তাব।”
ড. মাসুদ বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের উপস্থাপিত স্মারকপত্র উপদেষ্টা মহোদয় সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরণ করেছেন এবং মৌখিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। উপদেষ্টা মহোদয় আমাদের সমস্যার প্রতি আন্তরিক ছিলেন। তিনি নদীভাঙন নিয়ে ইতিমধ্যেই স্টাডি করেছেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।”
বৈঠকে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলে জানান ড. মাসুদ। প্রতিশ্রুতিগুলো হলো—
১. নদীভাঙন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
২. জরুরি ভিত্তিতে ১০ কিলোমিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ।
৩. স্থায়ী ও টেকসই ভাঙন প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলে সুপারিশ প্রেরণ।
৪. বাউফলের নদীভাঙন কবলিত ইউনিয়নগুলোর মানুষকে রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর আশ্বাস।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনতাসির মুজাহিদ, ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান নজরুল, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আলামিন, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ অনেকে।

