রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুর সাফারি পার্কের বিরল প্রাণী চুরির ঘটনায় আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের সদস্য গ্রেফতার করেছে সিআইডি

গাজীপুর সাফারি পার্ক থেকে বিপন্ন ও বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণী চুরির ঘটনায় আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের আরও একজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ–সিআইডি।

সিআইডির গাজীপুর জেলা ও মেট্রো বিভাগ গত ৪ নভেম্বর দুপুরে ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার কালাইপাড়া এলাকা থেকে স্থানীয় পুলিশের সহযোগিতায় তাকে আটক করে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. মজনু মিয়া (৫৫), পিতা–মৃত গিয়াস উদ্দিন, সাং–কালাইপাড়া, থানা–গফরগাঁও, জেলা–ময়মনসিংহ।

তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৬ জন পাচারচক্র সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।

ঘটনার বিবরণ

মামলার বাদী জানান, গত ২৩ মার্চ ২০২৫ তারিখ রাতে গাজীপুর সাফারি পার্কের নিরাপত্তা বেষ্টনী কেটে বিরল প্রজাতির ৩টি রিংটেইল লেমুর (২টি পুরুষ ও ১টি স্ত্রী) চুরি হয়। প্রাণীগুলোর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা।

পরদিন ঘটনা জানতে পেরে শ্রীপুর থানায় মামলা (নং–০৮, তাং–০৭/০৪/২০২৫, ধারা–৪৫৭/৩৮০ দণ্ডবিধি) দায়ের করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ২০১৮ সালে মাদাগাস্কার থেকে আমদানি নিষিদ্ধ এই রিংটেইল লেমুরসহ মোট ৮৬ জোড়া বন্যপ্রাণী দুই প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে দেশে আনে। পরে তা গাজীপুর সাফারি পার্কে সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করা হয়। সেখানে ৪টি লেমুর ছিল—এর মধ্যে একটি মারা গেলে বাকি ৩টি পার্কে অবস্থান করছিল।

চুরির পেছনের চক্র

পার্কে আউটসোর্সিং কর্মী নিপেল মাহমুদ (৩৩) বিভিন্ন সময় বিরল প্রাণীর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকসহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতেন।

ক্রেতা আগ্রহ প্রকাশ করলে তিনি সহচরদের নিয়ে নির্ধারিত প্রাণী চুরি করে বিক্রি করতেন।

এভাবে চুরি করা লেমুরগুলোর ছবি দেখে স্থানীয় পাখি ব্যবসায়ী মো. জুয়েল মিয়া (৪২) আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং সহকর্মী ইসমাঈল হোসেন হৃদয় (২৬)-এর মাধ্যমে আরও দুই ব্যবসায়ী—দেলোয়ার হোসেন তাওসীফ (২২) ও সাব্বির হোসেন তপন (২৬)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

২৩ মার্চ রাতে তারা সাফারি পার্কের বেড়া কেটে তিনটি লেমুর চুরি করে জুয়েল মিয়ার বাড়িতে রাখে।

এরপর তারা একটি লেমুর ৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ভাগ করে নেয়।

বাকি দুটি লেমুর তারা ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে ৭ লাখ টাকায় বিক্রি করতে মধ্যস্থতা করে।

লেমুর দুটিকে কার্টনে ভরে ক্রেতাদের গাড়িতে তুলে দেয়ার সময় নিপেল মাহমুদ ৭০ হাজার টাকা কমিশন পান।

এই প্রক্রিয়ায় জুয়েল মিয়ার চাচা মো. মজনু মিয়া (৫৫) লেমুর প্যাকেট ও হস্তান্তরে সহায়তা করেন।

তদন্ত অগ্রগতি

চক্রের সব সদস্য আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

তদন্তে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে এবং চুরি যাওয়া তিনটির মধ্যে একটি লেমুর উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বাকি দুইটি প্রাণী উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে সিআইডি জানতে পেরেছে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিপন্ন বন্যপ্রাণী চুরি করে আন্তর্জাতিক বাজারে পাচার করছিল।

বর্তমানে মামলাটি সিআইডির গাজীপুর জেলা ও মেট্রো বিভাগ তদন্ত করছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন