বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

কমলগঞ্জে ময়ুর মিয়া হত্যা রহস্য উদঘাটন, ধারালো চাকুসহ মূল আসামি গ্রেফতার

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় ময়ুর মিয়া (৬০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামি রিপন দেবনাথ (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো চাকু, নিহতের মোবাইল ফোনের ভাঙা অংশ এবং সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নিহত ময়ুর মিয়ার সঙ্গে রিপন দেবনাথের সুদের টাকার লেনদেন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সুদের টাকা পরিশোধ করলেও রিপনকে চুক্তিনামা বা স্ট্যাম্প ফেরত না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রিপন।

ঘটনার দিন রাতে দেওরাছড়া চা বাগান থেকে দু’জন একসঙ্গে বাড়ি ফেরার সময় স্ট্যাম্প ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে রিপন ময়ুর মিয়াকে বাবনবিল ছড়ার ধারে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে কিল-ঘুষি মেরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো চাকু দিয়ে তিনবার আঘাত করে পালিয়ে যায়।

হত্যাকাণ্ডের পর রিপন দেবনাথ ধারালো চাকুটি প্রতিবেশী নিবাস সাওতালের বাড়ির টয়লেটের ভেতর ফেলে রাখে এবং নিহতের মোবাইল ফোন ও সিমকার্ড ভেঙে হামিদিয়া চা বাগানে ফেলে দেয়।

উল্লেখ্য, গত ১১ জুলাই রাতে দেওরাছড়া চা বাগানের বাবনবিল ছড়ার পাশে স্থানীয়রা একটি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।

পরে নিহত ময়ুর মিয়ার মেয়ে হালিমা বেগম কমলগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে গত ১৫ জুলাই রাতে কমলগঞ্জের মুন্সিবাজার এলাকা থেকে রিপন দেবনাথকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার বিস্তারিত বিবরণ স্বীকার করে। তার দেখানো মতে হামিদিয়া চা বাগান এলাকা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত আলামতগুলো উদ্ধার করা হয়েছে।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, এই ঘটনায় আরও কোনো সহযোগীর সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন