শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় বিমান বন্দরে শতভাগ স্ক্যানিং সম্ভব হচ্ছে না


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন এবং কোটি কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। এসব কার্যক্রম তদারক করে ঢাকা কাস্টমস হাউস, যা দেশের রাজস্ব আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করে। তবে যাত্রীসেবা, রাজস্ব সংগ্রহ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করলেও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে শতভাগ স্ক্যানিং সম্ভব হচ্ছে না বলে উঠে এসেছে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে।

ঢাকা কাস্টমস হাউসের সামগ্রিক কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য সম্প্রতি একটি তিন মাসব্যাপী গবেষণা পরিচালনা করা হয়। এতে কাস্টমস কার্যক্রমের দুর্বলতা, সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাব্য সমাধানের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্ক্যানিং মেশিনের ঘাটতি, জনবল সংকট এবং কাঠামোগত জটিলতার কারণে যাত্রী ও ব্যাগেজের শতভাগ স্ক্যানিং সম্ভব হচ্ছে না।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, পিক আওয়ারে ৬-৭টি ফ্লাইট একসঙ্গে অবতরণ করলে প্রায় ৫ হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে উপস্থিত থাকেন। কাস্টমস বিভাগে প্রতিটি শিফটে গড়ে ১৬-১৭ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন, অথচ মাত্র চারটি স্ক্যানারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৬০-৭০টি ব্যাগ স্ক্যান করা সম্ভব হয়। ফলে অধিকাংশ যাত্রী বিনা স্ক্যানিংয়েই চলে যান। স্ক্যানিং প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে যাত্রীদের অসন্তোষ তৈরি হয় এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিমানবন্দরের রেটিং নেমে আসে।

বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে যাত্রীর মাধ্যমে আমদানি করা পণ্যে রাজস্ব আসলেও এর মাধ্যমে চোরাচালান, দুর্নীতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কা বাড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আধুনিক প্রযুক্তির সুপারিশ
গবেষণা প্রস্তাবে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে স্ক্যানারগুলোকে ল্যান্ডসাইড থেকে সরিয়ে এয়ারসাইডে প্রতিটি ব্যাগেজ বেল্টের শুরুতে বসানো দরকার। এতে ৩০-৪৫ মিনিটে প্রায় ১২০০ ব্যাগ স্ক্যান করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাগগুলো ডাইভার্টিং বেল্টে রেড চ্যানেলে পাঠিয়ে সেখানে অধিকতর পরীক্ষা করা যাবে।

এছাড়া বলা হয়, বর্তমানে কোন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি ব্যবহার না করায় অনেক যাত্রীকে চেক না করেই ছাড়তে হয়। ৩য় টার্মিনাল চালু হলে একসঙ্গে ১৬টি বেল্টে ৮ হাজার যাত্রী অবতরণ করবেন, যেখানে কাস্টমস হল ছোট হওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে।

যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক সুবিধা প্রস্তাব
অনেক বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী না বুঝেই শুল্কযোগ্য পণ্য আনেন এবং পরে তা ফিরিয়ে নিতে চান। আন্তর্জাতিক অনেক বিমানবন্দরে এ ধরনের ব্যবস্থাপনা থাকলেও বাংলাদেশে তা নেই। প্রস্তাবে এমন ব্যবস্থা চালুরও সুপারিশ করা হয়।

স্বর্ণ চোরাচালানে নজরদারির তাগিদ
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমান ক্যাটারিং সার্ভিস এলাকায় কাস্টমসের তদারকি না থাকলেও অতীতে সেখান দিয়ে স্বর্ণ পাচার হয়েছে। এজন্য সেখানে একটি ভেহিকল স্ক্যানার বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

কাস্টমস কমিশনারের বক্তব্য
ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মুহম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “বিমানবন্দরে কাস্টমস সেবার মান উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদার এবং যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকার। এর অংশ হিসেবে আমরা আগাম যাত্রী তথ্য সংগ্রহ, বডি স্ক্যানার স্থাপন এবং ব্যাগ স্ক্যানিং প্রযুক্তি উন্নত করার পরিকল্পনা নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “নতুন টার্মিনাল চালুর সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি, যাতে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং কাস্টমস সেবাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সম্ভব হয়।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন