শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

অর্থনৈতিক চাপে অন্য ব্যাংকগুলো যখন হিমশিম, তখন জনতা ব্যাংকে আমানতের চমক

মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত আমানত সংগ্রহ

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংক যখন আমানত সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে, তখন রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক মাত্র পাঁচ মাসে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি নতুন আমানত সংগ্রহ করে চমক সৃষ্টি করেছে। ব্যাংকটির বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে জনতা ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। ২০২৫ সালের মে মাস শেষে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায়। পাঁচ মাসে আমানত বেড়েছে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।

এছাড়া ব্যাংকের বৈদেশিক বাণিজ্যে এলসি পেমেন্টে যে ঘাটতি ছিল (প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার), তার প্রায় পুরোটাই পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে বাকি রয়েছে মাত্র ২৩ মিলিয়ন ডলার, যা ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতার ইতিবাচক ইঙ্গিত দেয়।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমান জানান, যোগদানের পর থেকেই জনতা ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা অনেকটা উন্নত হয়েছে। গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ চলছে। এর ফলে কয়েক মাসেই আমানত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণ আদায়েও মনোযোগী হয়েছে। বিশেষ করে বড় ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। যেখানে সুদ মওকুফ ও ওয়ান টাইম এক্সিটের মতো সব টুলস ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০২৪ সালে সারা বছরে যেখানে ৪৭ কোটি টাকার ক্যাশ রিকভারি হয়েছিল, ২০২৫ সালের প্রথম পাঁচ মাসেই তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা। রেমিট্যান্সেও জনতা ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে রয়েছে। গত বছর সব ব্যাংকের মধ্যে তৃতীয় এবং সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রথম হয়েছিল। চলতি বছর রেমিট্যান্স প্রবাহ দ্বিগুণ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন মজিবুর রহমান।

তিনি আরও বলেন, যোগদানের শুরুতে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা ধার করে ডিপোজিটরদের পরিশোধ করতে হতো। কিন্তু এখন সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা ডিপোজিট হয়েছে, যার মধ্যে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বাড়তি। সেই চাপ আর নেই।

ক্ষুদ্র আমানত সংগ্রহের কৌশল নিয়েও তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে সক্রিয় করে পার্সোনাল টার্গেট দেওয়া হয়েছে। সবাই একসঙ্গে মাঠে নামার ফলে এই সাফল্য এসেছে।

তিনি জানান, ঋণ পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে, টাস্কফোর্স মিটিং পরিচালিত হচ্ছে এবং সব নিয়ম মেনেই কার্যক্রম চলছে। বর্তমানে ব্যাংকের টিমের একাগ্রতা, শ্রম এবং নেতৃত্বের সমন্বয়েই এই সফলতা অর্জিত হয়েছে। চেয়ারম্যানের সহযোগিতা এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয় ভূমিকা এই অর্জনের পেছনে মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

জনতা ব্যাংক ইতোমধ্যে তিনটি নতুন পণ্য বাজারে এনেছে এবং আরও দুটি নতুন পণ্য শিগগির চালু হবে বলে জানা গেছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন