বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ঢাবি শিক্ষার্থী সাম্য হত্যা: বিচার দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, উত্তাল ক্যাম্পাস

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দিনভর ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছেন শিক্ষার্থীরা। ‘সন্ত্রাসবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘোষিত অর্ধদিবস শোক কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করে পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালন করছেন।

সকাল থেকে কলাভবন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদসহ বিভিন্ন ভবনের সামনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। তারা সকল শ্রেণি কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।

বেলা একটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষ তালাবদ্ধ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বিকেল ৫টায় অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে উপাচার্য ও প্রক্টরের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, নিহত শাহরিয়ারের রাজনৈতিক সংগঠন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও আজ পৃথকভাবে বিক্ষোভে অংশ নেন। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।

শাহরিয়ার হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগা নিয়ে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরিকাঘাতে শাহরিয়ার নিহত হন। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং স্যার এ এফ রহমান হলের ২২২ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন।

হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই রাতেই পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মাদারীপুরের মো. তামিম হাওলাদার (৩০), পলাশ সরদার (৩০) এবং ডাসারের সম্রাট মল্লিক (২৮)। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খালিদ মনসুর জানান, গ্রেপ্তার তিনজনই ভাসমান হকার এবং নেশাসক্ত। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও উত্তেজনা বাড়ছে। তারা দাবি করছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতায় এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার প্রতিবাদ জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলের পক্ষ থেকেও।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন