শনিবার, ৯ মে ২০২৬

গোলাগুলির মুখে লিবিয়ার বৃহত্তম তেল শোধনাগার বন্ধ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

লিবিয়ার বৃহত্তম সচল তেল শোধনাগার জাওইয়া রিফাইনারি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষের জেরে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শোধনাগার এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

লিবিয়ার ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) এবং জাওইয়া রিফাইনিং কোম্পানি জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তেল কমপ্লেক্স ও বন্দর এলাকা থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এনওসি জানিয়েছে, সব কর্মী নিরাপদ আছেন এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার ভোরে শোধনাগারের আশপাশে ভারী অস্ত্র নিয়ে সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটে। শোধনাগারের ভেতরেও গোলার আঘাত লাগে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

তবে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পাশের আবাসিক এলাকাতেও পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এতে তেল স্থাপনায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাজধানী ত্রিপোলি থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জাওইয়া এলাকায় কর্তৃপক্ষ বৃহৎ নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।

বিভিন্ন ভিডিওতে বিস্ফোরণ, গোলাগুলি এবং শোধনাগারের ভেতরে গাড়ি ও স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে। গোলা পড়ার পর সাইরেন বাজানোর শব্দও শোনা যায়।

জাওইয়া রিফাইনিং কোম্পানি সব পক্ষকে অবিলম্বে সংঘর্ষ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে লিবীয় কর্তৃপক্ষকে দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছে।

প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধন সক্ষমতা রয়েছে জাওইয়া রিফাইনারির। এটি দৈনিক ৩ লাখ ব্যারেল উৎপাদনক্ষম শারারা তেলক্ষেত্রের সঙ্গেও সংযুক্ত।

২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকেই লিবিয়ায় রাজনৈতিক বিভাজন ও সশস্ত্র সংঘাত চলমান। বর্তমানে দেশটিতে ত্রিপোলিভিত্তিক সরকারের সঙ্গে পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের অনুগত বাহিনীর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন