শনিবার, ৯ মে ২০২৬

শুভেন্দুর শপথ আজ, কড়া নিরাপত্তায় ব্রিগেড; নির্বাচনী ফল নিয়ে আইনি লড়াইয়ে নামছেন মমতা

শুভেন্দু অধিকারী আজ পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন। Brigade Parade Ground-এ অনুষ্ঠিতব্য এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো কলকাতাজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে নির্বাচনী ফলাফল ও সরকার গঠনকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের আভাসও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ভিভিআইপি ও আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে তল্লাশির মুখোমুখি হতে হবে। ছাতা, ব্যাগ, জলের বোতলসহ কোনো ধরনের বহনযোগ্য সামগ্রী মাঠে প্রবেশের অনুমতি থাকবে না। পুরো ব্রিগেড এলাকা প্রায় ৩৫টি নিরাপত্তা সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি ব্লকের দায়িত্বে থাকবেন আইপিএস পদমর্যাদার কর্মকর্তারা। সার্বিক নিরাপত্তা তদারক করবেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ -সহ বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের।

শুক্রবার বিজেপির নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিধায়কের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচিত হন শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে অমিত শাহ বলেন, “সব প্রস্তাবেই একটিই নাম ছিল— শুভেন্দু অধিকারী।” এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এবং এবার ভবানীপুরে মমতা ব‍্যানার্জি -কে পরাজিত করার পর থেকেই শুভেন্দুকে মুখ্যমন্ত্রীর সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছিল। এবার ভবানীপুরে প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন তিনি।

এদিকে নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আগেই দাবি করেছেন, নির্বাচনে তিনি পরাজিত হননি এবং রাজনৈতিকভাবে “রাজপথের লড়াই” চালিয়ে যাবেন। তৃণমূল শিবির সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী অনিয়ম, প্রশাসনিক পক্ষপাত ও ভোট গণনার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণার পর থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ও নন্দীগ্রামে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। শুভেন্দুর পৈতৃক বাড়ি ‘শান্তিকুঞ্জ’-এ ভিড় করছেন সমর্থকরা। তার বাবা ও প্রবীণ রাজনীতিক শিশির অধিকারী -ও কলকাতায় পৌঁছেছেন ছেলের শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য।

শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করবে এবং তার মূল মন্ত্র হবে “চরৈবেতি”— অর্থাৎ এগিয়ে চলা। তিনি জানিয়েছেন, “আমি নয়, আমরা”— এই নীতিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়েই পশ্চিমবঙ্গ পরিচালনা করতে চান।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন