বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

তিনটি অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের এনফোর্সমেন্ট অভিযানে বেরিয়ে এলো অর্থপাচার, চিকিৎসা অব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প দুর্নীতির প্রমাণ

ঢাকা, ২৬ মে ২০২৫

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আজ (২৬ মে) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট দেশব্যাপী তিনটি পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানে উঠে এসেছে অর্থপাচার, চিকিৎসা সেবায় চরম অব্যবস্থাপনা এবং সড়ক নির্মাণে অনিয়মের চিত্র।

অভিযান-১: অর্থপাচার ও ভুয়া মর্টগেজে ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি

প্রথম অভিযানে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত এক অভিযানে ব্যাংক ঋণের আড়ালে বিদেশে অর্থপাচার ও সম্পত্তি গোপনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়।

এনফোর্সমেন্ট টিম অনুসন্ধানে জানতে পারে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় অমূল্য সম্পত্তি মর্টগেজ হিসেবে দেখিয়ে মোটা অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করেন এবং সেই অর্থের একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করেন। বসুন্ধরায় তার ও তার বোনের নামে দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের সন্ধান মেলে, যা প্রাথমিকভাবে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পত্তি হিসেবে প্রতীয়মান হয়।

এছাড়াও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, গুলশান কর্পোরেট শাখায় তার মালিকানাধীন MR Trade International-এর নামে একটি ‘Bad Loan’ এর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার পরিমাণ ১০ কোটিরও বেশি। ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে দুদকের টিম।

সম্পৃক্ত রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণ করে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

অভিযান-২: সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা

দ্বিতীয় অভিযানে সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার নানা চিত্র উঠে আসে।

দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট থেকে পরিচালিত এই অভিযানে দেখা যায়, হাসপাতালের বাথরুম ব্যবহারের অযোগ্য এবং রোগীদের খাবার নিম্নমানের। হাজিরা ব্যবস্থায় গড়মিল ও কর্মচারীদের অনিয়মিত উপস্থিতি চোখে পড়ে।

বিশেষ করে ফার্মেসির আলমিরাতে রেজিস্ট্রারবিহীন ওষুধ মজুত থাকায় অনুমান করা হচ্ছে—এই ওষুধ বাইরের ফার্মেসিতে বিক্রি হচ্ছে। ওষুধ ক্রয়ের ক্ষেত্রে দরপত্র প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি কেনার অভিযোগ উঠেছে।

প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযান-৩: বাঁশখালীতে এলজিইডির প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম

তৃতীয় অভিযানে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর দুইটি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করে অনিয়ম অনুসন্ধান করা হয়।

পাইরাং হাজী মোতাহের রোড এবং ছনুয়া লস্কর মৌলভীপাড়া সড়ক প্রকল্পের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এনফোর্সমেন্ট টিম। অভিযানে একজন নিরপেক্ষ প্রকৌশলীও অংশ নেন।

দুদক কর্তৃক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন

প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

রিপোর্ট বিশ্লেষণ শেষে কমিশনের কাছে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, এসব অভিযানের ভিত্তিতে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কমিশন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন