বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

‘সুপার ন্যাচারাল’ ক্ষমতার ফাঁদে প্রতারণা, মা ফাতেমা ও জ্বীনের বাদশার নামে কোটি টাকার চক্র ভাঙলো পিবিআই

‘সুপার ন্যাচারাল ক্ষমতা’ ও ‘জ্বীনের বাদশা’র নামে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া একটি প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। ইউটিউব ও টেলিভিশনে মিথ্যা ও চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ‘মা ফাতেমা’র দরবার থেকে সব সমস্যার অলৌকিক সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল।

গত ১৮ মে ভোলা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় আসামি ১। মো. রাকিব (২০), ২। মো. রাকিব মোল্লা (২৯), এবং ৩। মো. আলাউদ্দিন (২৬)। গ্রেফতারকৃত সবাই ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ফুলকাচিয়া এলাকার বাসিন্দা।

তদন্তে জানা যায়, ঢাকার তেজকুনীপাড়ার গৃহবধূ রহিমা বেগম বিদেশে কর্মরত স্বামীর ভিসা জটিলতায় পড়লে প্রতারকচক্রের প্রলোভনে পড়ে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা হারান। প্রতারকরা দাবি করে, ‘আধ্যাত্মিক ক্ষমতাধারী’ মা ফাতেমার দরবারে জ্বীনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব। এজন্য তারা আগরবাতি, শাড়ি, রত্নজড়িত আংটি, ভূটানী গরুর দুধ, পাঠা বলি ইত্যাদির নাম করে ধাপে ধাপে টাকা হাতিয়ে নেয়।

পিবিআইয়ের তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে, শুধু রহিমা বেগম নন—সারা দেশে এমন হাজারো মানুষকে তারা প্রতারণার ফাঁদে ফেলেছে। ভয় দেখিয়ে, ধর্মীয় বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে এবং ইউটিউব থেকে নামানো বিভৎস ছবি ব্যবহার করে জ্বীনের আছর ও সন্তান মৃত্যুর হুমকির মতো কৌশলে মানসিকভাবে নির্যাতন চালানো হতো।

তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. সিরাজ উদ্দিন জানান, জাল ভয়েজ রেকর্ড, নারী কণ্ঠে ‘মা ফাতেমা’ সেজে পুরুষ প্রতারকরা যোগাযোগ করতেন এবং তাদের কথাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে নানা ভণ্ডামি চালাতেন। তাদের হেফাজত থেকে মোবাইল, ভয়েস রেকর্ড, প্রতারণার ভিডিও ও বিজ্ঞাপনচিত্র জব্দ করা হয়েছে।

বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের জন্য ভুয়া নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করা হতো। এ সংক্রান্ত লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর ইউনিট ইনচার্জ অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান পিপিএম-সেবার তত্ত্বাবধানে এবং পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনে প্রতারিত হওয়ার আগে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং এ ধরনের অভিযোগ থাকলে তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন