বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

মৌলভীবাজারে ঔষধ কোম্পানির ডিপোতে ডাকাতি: আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূলহোতাসহ গ্রেফতার ২

২৪ মে ২০২৫

মৌলভীবাজার জেলার তিনটি ঔষধ কোম্পানির ডিপোতে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূলহোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় গিয়ে তালা কেটে ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধারাবাহিকভাবে ডাকাতি করছিল বলে জানা গেছে।

গ্রেফতার হওয়া দুইজনের মধ্যে অন্যতম শামীম আহমেদ (৪৫), যিনি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামের মৃত সিরাজ আলীর ছেলে। অপরজন তার সহযোগী মুকিত মিয়া। শামীম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারে একমি ঔষধ কোম্পানির ডিপো থেকে প্রথমে ৪৮ হাজার টাকা লুট হয়। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি বেক্সিমকো ডিপো থেকে ৬৮ লাখ এবং ১০ মে ওরিয়ন কোম্পানির ডিপো থেকে ৮ লাখ টাকা লুট করে চক্রটি। প্রতিটি ঘটনার পরই মৌলভীবাজার সদর থানায় পৃথক মামলা রুজু হয়।

প্রথম ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ আজমল হোসেনের নেতৃত্বে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ গাজী মোঃ মাহবুবুর রহমান এবং এসআই জয়ন্ত সরকার, হিরণ বিশ্বাস, উৎপল সাহা, রানা মিয়া, এএসআই সাইদুর রহমানকে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করা হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ, গোপন সোর্স এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত ১৭ মে রাত সাড়ে ৩টায় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার পশ্চিম ভাদেশ্বর গ্রাম থেকে শামীম আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগেই গ্রেফতার করা হয় তার সহযোগী মুকিত মিয়াকে।

শামীমের হেফাজত থেকে ডাকাতির টাকা দিয়ে কেনা একটি নোয়া মাইক্রোবাস, ব্যবহৃত পালসার মোটরসাইকেল, কেডস, ইলেকট্রিক কাটার ও হেক্সাব্লেড জব্দ করা হয়েছে।

ওসি মাহবুবুর রহমান জানান, “প্রথম ঘটনার পর থেকেই আমরা তদন্ত শুরু করি। প্রথমে মুকিতকে গ্রেফতার করি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মূলহোতা শামীমকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই।”

তিনি আরও জানান, “এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরেই সিলেট অঞ্চলে সক্রিয়। তিন বছর আগে সিলেটের ওসমানীনগর থানার এটিএম বুথ ডাকাতি মামলায় ঢাকায় গ্রেফতার হয়েছিল শামীম। আমরা এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের জন্যও কাজ করছি।”

পুলিশের এ সাফল্যকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনসাধারণ সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন