শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

মিনিকেট চালসহ কিছু পণ্যে স্বস্তির হাওয়া, স্থিতিশীল বাজারে কিছু পণ্যে দাম কমেছে

রাজধানীর খুচরা বাজারে মিনিকেট চালের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। মাসখানেক আগেও যেসব চাল কেজিতে ৮৮ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৭৫–৭৬ টাকায়। তবে বাজারে এখনও বেশ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে রসুন, মশুর ডাল ও ভোজ্যতেলের দামে কোনো উল্লেখযোগ্য হ্রাস দেখা যায়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর, কল‍্যানপুর, ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে। বাজারে বিক্রেতারা বলছেন, নতুন বোরো মৌসুমের ধান বাজারে আসায় সরু চালের সরবরাহ বেড়েছে। এর প্রভাবেই মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ১২–১৫ টাকা পর্যন্ত কমেছে।

বিক্রেতারা জানান, বর্তমানে বাজারে ডায়মন্ড, সাগর, মঞ্জুর ও রসিদ ব্র্যান্ডের নতুন মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫–৭৬ টাকায়। আগের মাসে যা ছিল ৮৮–৯০ টাকা। তবে পুরোনো মিনিকেট চালের দাম এখনো তুলনামূলক বেশি—৮৫ টাকার ওপরে। মোজাম্মেল ব্র্যান্ডের মিনিকেট চাল এখনও বিক্রি হচ্ছে ৮২–৮৪ টাকায়, যা একসময় ৯৫–১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।

চালের পাশাপাশি অন্যান্য কিছু পণ্যের দামও কিছুটা কমেছে। ব্রয়লার মুরগি বাজারে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৬০–১৭০ টাকায়, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১৮০–১৯০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ২০–৩০ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায়। তবে ডিমের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই—ফার্মের বাদামি ডিম এখনও প্রতি ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০–১৩৫ টাকায়।

এদিকে বাজারে রসুনের দামে এখনো ভোক্তাদের মাথাব্যথা রয়ে গেছে। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা এবং আমদানি করা রসুনের দাম পৌঁছেছে ২০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগের চেয়েও ১০–২০ টাকা বেশি। মশুর ডালের দামও কমার কোনো লক্ষণ নেই—কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১৪০ টাকায়।

ভোজ্যতেলেও দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই। বোতলজাত ১ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৯ টাকায়, আর খোলা তেল বিক্রি হচ্ছে ১৭৮ টাকা লিটারে। পেঁয়াজের দামেও কেজিতে ৫ টাকা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে—বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০–৬৫ টাকায়।

সবজির বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। পটোল, ঢ্যাঁড়স, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, ধুন্দল ও লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪০–৫০ টাকায়; বরবটি, পেঁপে ও টমেটো ৬০ টাকায়; কাঁকরোল ও বেগুন ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছ-মাংসের বাজারেও তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা, আর খাসির মাংস ১,০০০ থেকে ১,১৫০ টাকা কেজি দরে। চাষের তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২২০–২৫০ টাকা, পাঙাশ ২০০–২৫০, রুই ৩৫০–৪০০, কৈ ৩০০–৩২০ এবং পাবদা মাছ ৪০০–৫০০ টাকা কেজি।

ক্রেতারা বলছেন, “চালের দাম কমেছে এটা ভালো, তবে রসুন, তেল ও ডালের দাম এখনো আকাশচুম্বী। চাল কমলেও রান্নার খরচ কমছে না।” বিক্রেতারা বলছেন, কিছু পণ্যে মৌসুমি প্রভাব পড়লেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরবরাহ খরচ, আমদানি ব্যয় ও বাজার তদারকির ঘাটতিই দাম বাড়ার কারণ।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমে আসা ইতিবাচক হলেও সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাজার ব্যবস্থাপনায় শক্ত নজরদারি এবং পরিকল্পিত সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন