রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

রাজধানীতে ওয়াসার পানি নিয়ে ভোগান্তি: দুর্গন্ধ ও পোকা, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে নাগরিকরা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা ওয়াসার পানিতে পোকা, দুর্গন্ধ ও ময়লার অভিযোগ উঠেছে। এতে বাসিন্দারা নানা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। গরমের এই সময়ে পানি অপরিহার্য হলেও, অনেকেই বাধ্য হয়ে দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহার করছেন।

মিরপুর, কল্যাণপুর, দক্ষিণ পাইকপাড়া ও পীরেরবাগ এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক মাস ধরে ওয়াসার পানিতে পোকা দেখা যাচ্ছে। পানিতে অস্বাভাবিক গন্ধও থাকছে। কল্যাণপুরের বাসিন্দা আমজাদ হোসেন বলেন, “পানিতে কেঁচো পাওয়া গেছে কয়েকবার। রান্না, গোসল তো দূরের কথা—এমন পানি দেখা মাত্রই অনেকে বমি করে ফেলেছে।”

দক্ষিণ পাইক পাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ আলমগীর হোসেন বলেন, “আমাদের বাড়ির ট্যাংক পরিষ্কার করিয়েছি। তারপরও সমস্যার সমাধান হয়নি। একমাত্র বিকল্প ছিল ডিপ টিউবওয়েল, সেটাও সবাই করতে পারে না।”

পীরেরবাগ এলাকার বাসিন্দা জাকির মাহমুদ বলেন, “ফুটিয়ে খাওয়ার পরও পানির দুর্গন্ধ যায় না। এই পানি দিয়ে বাচ্চাদের মুখ ধুতে ভয় লাগে।”

এই সমস্যা শুধু মিরপুর বা কল্যাণপুরেই সীমাবদ্ধ নয়। ধানমন্ডি, মালিবাগ, বাসাবো, মগবাজার, মধুবাগ, তেজগাঁওসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়ও একই অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সকালে এবং দুপুরের দিকে সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ বেশি থাকে বলে বাসিন্দারা জানান। কেউ কেউ বলেন, পানি গরম করলে গন্ধ আরও তীব্র হয়।

বিভিন্ন এলাকায় পোকাসহ ময়লাযুক্ত পানির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ওয়াসা এই অভিযোগ নিজেদের দায় হিসেবে মানতে চায় না।

ওয়াসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি বাড়ির রিজার্ভ ট্যাংকের দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্নতার কারণে হয়ে থাকে। পানিতে ক্লোরিন ব্যবহারের ফলে কিছুটা গন্ধ থাকতে পারে, তবে তা ক্ষতিকর নয়।” আরও বলা হয়, “আমাদের পানিতে পোকা বা দুর্গন্ধ থাকার কোনো সুযোগ নেই। অনেকেই ইতোমধ্যে তাদের রিজার্ভ ট্যাংক পরিষ্কার করায় সমস্যাও কমে এসেছে।”

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দূষিত পানি ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড এবং চর্মরোগের ঝুঁকি বহন করে। বারবার ফুটিয়েও যদি পানিতে গন্ধ বা জীবাণু থাকে, তাহলে তা সরাসরি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলতে পারে শিশু ও বৃদ্ধদের।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ওয়াসা দায় এড়িয়ে যাচ্ছে, কিন্তু ভুক্তভোগী তো নাগরিকেরা। নাগরিকরা চাইছেন, বিষয়টি নিয়ে ওয়াসা আরও দায়িত্বশীল হোক এবং এলাকাভিত্তিক সরবরাহকৃত পানির গুণগত মান নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় আনা হোক।

বিজ্ঞাপন


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন