শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

এনবিআর বিলুপ্তির অধ্যাদেশ বাতিলের দাবি, ৩ দিনের কলম বিরতির ঘোষণা

ঢাকা, ১৩ মে ২০২৫
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলুপ্ত করে “রাজস্ব নীতি” ও “রাজস্ব ব্যবস্থাপনা” নামে দুটি পৃথক বিভাগ গঠনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে তিন দিনের কলম বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর ভবনের সামনে “এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ”-এর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, “মতামত উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে গোপনে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে” যা রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি স্বরূপ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কাস্টমসের অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কণ্ডু, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরিন সুস্মিতা এবং উপ-কর কমিশনার শাহ মোহাম্মদ ফজলে এলাহী। কর্মসূচিতে ৩০০ থেকে ৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলেন, সোমবার (১২ মে) রাতেই একটি অধ্যাদেশ জারি করে এনবিআর বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। অথচ গত ১৭ এপ্রিল উপদেষ্টা পরিষদে অনুমোদিত খসড়া অধ্যাদেশ নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।

অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কণ্ডু বলেন, “আমাদের মতামতকে উপেক্ষা করে রাতের বেলা অনেকটা গোপনীয়ভাবে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। সংস্কার পরামর্শক কমিটির প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি। এই পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না।”

তিনি আরও বলেন, “অধ্যাদেশ বাতিল করে, পরামর্শক কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সকল স্টেকহোল্ডারের মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার হলে তাতে আমাদের কোনও আপত্তি থাকবে না।”

সাধন কুমার জানান, ১৪, ১৫ ও ১৭ মে—এই তিন দিন এনবিআরের অধীন আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট দপ্তরে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা/৩টা পর্যন্ত কলম বিরতি পালন করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক যাত্রী সেবা, বাজেট ও রপ্তানি কার্যক্রম কলম বিরতির আওতামুক্ত থাকবে।

১৭ মে বিকেল ৩টায় পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি।

মোনালিসা শাহরিন সুস্মিতা বলেন, “যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অধ্যাদেশটি জারি হয়েছে, সেখানে কাস্টমস ও কর সার্ভিসের কারও মতামত প্রতিফলিত হয়নি। এটি দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোর ভিত্তিকে দুর্বল করে।”

উপ-কর কমিশনার শাহ মোহাম্মদ ফজলে এলাহী বলেন, “রাষ্ট্রের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এনবিআরকে বিলুপ্ত করার মতো সিদ্ধান্তে অংশীজনদের সম্পৃক্ততা থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল।”

এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন—তারা এ অধ্যাদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেনএবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন