বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে নতুন আইন নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের কর্মশালা

রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে দিনব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর উদ্যোগে এবং জাস্টিস এন্ড কেয়ার-এর সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার “মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০২৬” বিষয়ক এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দীন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সচিব রেবেকা খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাস্টিস এন্ড কেয়ার-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান বর্তমানে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে এ বিষয়ে আধুনিক আইন প্রণয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, জাতিসংঘের ২০০০ সালের কনভেনশন (UNTOC) এবং এর সম্পূরক টিআইপি (TIP) ও এসওএম (SOM) প্রোটোকলের আলোকে “মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬” প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নতুন আইনে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। অনলাইন প্রতারণা, স্ক্যামিং এবং মুক্তিপণ আদায়ের মতো আধুনিক অপরাধগুলোও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, নতুন আইনে প্রথমবারের মতো মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানকে পৃথক অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত সব বিধান একটি সমন্বিত আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।

আইনে পাচারকারীদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি পাচারকারীদের সম্পত্তি ব্যবহার করতে দিলে বা অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপন করলে ৩ থেকে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে। এছাড়া যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে কাউকে আমদানি বা স্থানান্তরের অপরাধে ৩ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইনে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন বা অভিবাসনের নামে প্রতারণাকেও দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন আইনের মাধ্যমে তদন্ত ও বিচারিক ক্ষমতাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা এখন পাচারকারীদের ব্যাংক হিসাব জব্দ, সম্পদ যাচাই এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল পাচার সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধের বিচারও একই সঙ্গে করতে পারবে। বিদেশে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (MLA) ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের সুরক্ষায়ও নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। কাউকে ভয়ভীতি দেখানো বা আপস করতে বাধ্য করলে সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পাচারের শিকার কোনো ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃতভাবে জাল পাসপোর্ট বহন বা অবৈধ অনুপ্রবেশের মতো কাজে জড়িয়ে পড়লে তাকে আসামি হিসেবে গণ্য না করার বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

কর্মশালায় দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার ৪৮ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও গণসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন