রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিট টানা কয়েক ঘণ্টা ধরে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া এই আগুন সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতেও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুনের তীব্রতা অনেক বেশি এবং ভেতরে থাকা আমদানি করা পণ্যের মধ্যে কেমিক্যাল, কাপড় ও দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি আগুনের ধোঁয়ায় আশপাশের এলাকা ঢেকে গেছে, যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলছে।
আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস ছাড়াও সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি এবং সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করছে।
ফ্লাইট চলাচল বন্ধ, বিকল্প বিমানবন্দরে অবতরণ
অগ্নিকাণ্ডের কারণে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঢাকাগামী ৮টি ফ্লাইট চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে এবং একটি ফ্লাইট সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো ভিলেজ হাউস থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই তা দাউদাউ করে আগুনে রূপ নেয়।
ক্ষয়ক্ষতি ও আহতের খবর
এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। তবে কার্গো ভিলেজের সকল কাপড় ও কেমিক্যাল জাতীয় পণ্য সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া আনসারের ১৭ সদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মুখপাত্র উপপরিচালক আশিকুজ্জামান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জোর তৎপরতা
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে ফায়ার কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে এবং পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিমানবন্দর এলাকায় অতিরিক্ত ট্যাংকার মোতায়েন করা হয়েছে। রাতের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আশাবাদও ব্যক্ত করেছেন তারা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট কার্যক্রম সীমিত আকারে পরিচালিত হবে, এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

