চলতি জুনে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের নজর ছিল এক মহাজাগতিক ঘটনার দিকে। একাধিক বিশালাকার গ্রহাণু (অ্যাস্টেরয়েড) পৃথিবী এবং চাঁদের কক্ষপথের আশেপাশ দিয়ে অতিক্রম করেছে। যদিও এসব বস্তু সরাসরি কোনো সংঘর্ষ ঘটায়নি, তবে বিজ্ঞানীদের মতে, এসব ঘন ঘন “ক্লোজ পাসিং” ভবিষ্যতের বিপদের ইঙ্গিত বহন করতে পারে।
চাঁদের পাশে ধেয়ে গেল শহর ধ্বংসকারী গ্রহাণু
গত ১৯ জুন নিউইয়র্ক পোস্ট ও ইউপিআই-এর খবরে জানানো হয়, ‘2024 YR4’ নামক ৫০ মিটার চওড়া একটি অ্যাস্টেরয়েড ২০৩২ সালের ২২ ডিসেম্বর চাঁদে আঘাত হানতে পারে। NASA-এর বিজ্ঞানীরা এই সম্ভাবনাকে ৪.৩ শতাংশ পর্যন্ত হিসেব করছেন। তারা বলছেন, যদি আঘাত ঘটে, তাহলে প্রায় ১ কিমি ব্যাসের গর্ত সৃষ্টি হতে পারে যা চাঁদের গঠন ও কক্ষপথের স্থিতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
“সিটি কিলার” উপাধি কেন?
বিজ্ঞানীরা গ্রহাণুটিকে ‘সিটি কিলার’ আখ্যা দিয়েছেন কারণ পৃথিবীতে আঘাত হানলে এটি পুরো একটি শহর ধ্বংস করার মতো শক্তি রাখে। যদিও এখন পর্যন্ত এর কক্ষপথ সরাসরি পৃথিবীর দিকে নির্দেশ করছে না, তবে মহাকাশে কক্ষ পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা বিজ্ঞানীদের চিন্তিত করে তুলছে।
NASA-এর সতর্কতা: 2025 KX8
NASA সম্প্রতি সতর্কতা জারি করেছে 2025 KX8 নামক আরেকটি গ্রহাণু সম্পর্কে। এই ১২০ ফুট দৈর্ঘ্যের মহাজাগতিক বস্তুটি ৪ জুন পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করেছে। সৌভাগ্যবশত, এটি পৃথিবীর কোনো অংশে আঘাত করেনি।
অন্যদিকে, চাঁদের পাশে উড়ে গেল ২০০৮ DG5
NASA-এর CNEOS-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০০৮ DG5 নামক একটি জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্লাস বিমানবাহী রণতরীর সমপরিমাণ আকারের গ্রহাণু ৩৪ লক্ষ কিলোমিটার দূর দিয়ে চাঁদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, মহাকাশে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি আগামী দশকে আরও বাড়বে।
প্রতিরোধ কীভাবে সম্ভব?
NASA, ESA ও অন্যান্য মহাকাশ সংস্থাগুলো এখন “প্ল্যানেটারি ডিফেন্স” ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। মহাকাশে অ্যাস্টেরয়েডের গতি পরিবর্তন, ধাক্কা দিয়ে কক্ষপথ ঘোরানো বা মহাশূন্যেই ধ্বংস করার প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষাও চালানো হচ্ছে।

