শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশে চালু হচ্ছে ‘গুগল পে’: ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় নতুন যুগের সূচনা

ঢাকা, ২৯ মে ২০২৫:

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা ‘গুগল পে’। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী এক মাসের মধ্যেই এ সেবার কার্যক্রম শুরু হবে দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায়।

প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে সিটি ব্যাংকের গ্রাহকরা তাদের ভিসা ও মাস্টারকার্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় ইস্যুকৃত) গুগল ওয়ালেটের সঙ্গে যুক্ত করতে পারবেন। ফলে তারা যেকোনো এনএফসি (NFC)-সাপোর্টেড পয়েন্ট অফ সেল (POS) টার্মিনালে অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করে ‘ট্যাপ অ্যান্ড পে’ প্রযুক্তির মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবেন।

গুগল এবং সিটি ব্যাংক যৌথভাবে এই সেবা বাস্তবায়নের দায়িত্ব নিয়েছে। ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য ব্যাংকও এই সেবায় যুক্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সহজ, নিরাপদ ও আধুনিক লেনদেনের সুযোগ

গুগল পে চালু হলে ব্যবহারকারীরা আধুনিক কনট্যাক্টলেস পেমেন্ট সুবিধা পাবেন, যা তাদের দৈনন্দিন কেনাকাটাকে করবে দ্রুত ও নিরাপদ।

তবে ডিজিটাল ওয়ালেট সেবাগুলো স্পর্শকাতর আর্থিক তথ্য পরিচালনা করলেও, গুগল ওয়ালেট ব্যবহারকারীর তথ্য সংরক্ষণ করে না বলে জানিয়েছে সূত্র। এজন্য গুগল পে চালুর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি অনুমোদনের প্রয়োজন নেই।

ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যাংক কার্ড গুগল ওয়ালেট অ্যাপে যুক্ত করবেন এবং লেনদেন সম্পন্ন হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমেই। তবে যেসব ব্যাংক এই সেবায় সংযুক্ত হতে চায়, তাদের সেবা চালুর আগে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

লেনদেন খরচ ও চার্জ

গুগল ওয়ালেট সাধারণত কেনাকাটা, অনলাইন পেমেন্ট ও পিয়ার-টু-পিয়ার (P2P) লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো চার্জ নেয় না, যদি ব্যবহারকারী নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ডেবিট কার্ড ব্যবহার করেন। তবে কার্ডধারীর ব্যাংক তার নিজস্ব নীতিমালা ও কার্ডের ধরণ অনুযায়ী ফি নির্ধারণ করতে পারে।

তবে, গুগল যদি কোনো কারণে লেনদেনটি আন্তর্জাতিক সার্ভার ব্যবহার করে প্রক্রিয়াকরণ করে, সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সূত্র।

বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল ওয়ালেট ‘গুগল পে’-এর এই আনুষ্ঠানিক যাত্রা বাংলাদেশের আর্থিক প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নিরাপদ, দ্রুত এবং আধুনিক পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন