শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

দুর্নীতির রাঘব বোয়ালদের ছায়ায় চক্রান্তের শিকার নিরপরাধ ব্যাংকার দেলোয়ার

এনআরবিসি ব্যাংকে বহুল আলোচিত দুর্নীতির তদন্তে রাঘব বোয়ালদের পাশাপাশি নিরপরাধ কর্মকর্তারাও চক্রান্তের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যাংকটির সাবেক পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার পরিপ্রেক্ষিতে যে কয়েকজন কর্মকর্তার নাম আলোচনায় এসেছে, তাদের একজন হলেন বর্তমান বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. দেলোয়ার হোসেন।

২০২২ সালের মে-জুন মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেস ডিভিশন এনআরবিসি ব্যাংকে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পায়। ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এসএম পারভেজ তমাল এবং পর্ষদের কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সেই অনিয়মের ছায়ায় পড়ে যান কিছু নিরপরাধ ব্যাংক কর্মকর্তা, যাদের মধ্যে অন্যতম দেলোয়ার হোসেন।

ব্যাংকসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেলোয়ার হোসেন একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও অভিজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ ৩৪ বছরের কর্মজীবনে সুপরিচিত। সিটি ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক এবং এনআরবিসি ব্যাংকে তাঁর পেশাগত সুনাম রয়েছে। ১৫ বছরের বেশি সময় শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোর ধারাবাহিক সাফল্য অর্জিত হয়।

শিল্প ও রপ্তানি খাতে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি বহুবার পুরস্কৃত হয়েছেন। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও ক্ষুদ্র শিল্পে ঋণ বিতরণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অথচ এখন তিনি নিজেই এক কুচক্রি মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার।

দেলোয়ার হোসেন ‘প্রান্তকাল’-কে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা প্রচার চালানো হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি সব সময় নীতির প্রশ্নে আপসহীন ছিলাম। যার কারণে আজ আমি কিছু লোকের রোষানলে পড়েছি। আমি চাই, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হোক। অপরাধী শাস্তি পাক, কিন্তু নিরপরাধ যেন হেনস্তার শিকার না হয়।”

একইসঙ্গে এনআরবিসি ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তাও দেলোয়ারের পক্ষ নিয়ে বলেন, উর্ধ্বতনদের আদেশ পালন করাই ব্যাংকের সংস্কৃতি। যেকোনো অনিয়মে তাদের নির্দেশে কাজ করতে গিয়ে অনেকেই বাধ্য হন অনিচ্ছাসত্ত্বেও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে। তাই তদন্তের সময় এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রাঘব বোয়ালদের দায় চাপিয়ে যেন নিরপরাধ কর্মীদের বলি না করা হয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত কার্যক্রমে সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি নিরপরাধ কর্মকর্তাদের সম্মান পুনরুদ্ধার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন