শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

নতুন নোটে থাকছে ধর্মীয় সহাবস্থান, ঐতিহ্য ও প্রকৃতির ছাপ

ঢাকা, ২১ মে ২০২৫

ঈদুল আজহার আগে ও পরে বাজারে আসছে নতুন ডিজাইনের একাধিক কাগুজে নোট। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এবারের নোটগুলোর নকশায় থাকছে ধর্মীয় বৈচিত্র্য, জাতীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতিফলন। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে কোনো নোটেই থাকছে না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা মানুষের পূর্ণাঙ্গ প্রতিকৃতি।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় বাজারে আসছে ২০, ৫০ ও ১০০০ টাকার নতুন নোট। ২০ টাকার নোটে থাকবে দিনাজপুরের কান্তজিউ মন্দির এবং একটি বৌদ্ধ মন্দিরের ছবি, যা পাওয়া যাবে ২৭ মে থেকে। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের দুর্ভিক্ষ চিত্র ও আতিয়া মসজিদের চিত্রসম্বলিত ৫০ টাকার নোট আসবে ২৯ বা ৩০ মে। আর ১০০০ টাকার নতুন নোটে দেখা যাবে বঙ্গভবন ও জাতীয় স্মৃতিসৌধের প্রতিচ্ছবি, যা বাজারে আসবে ২ জুন।

নতুন ২০০ টাকার নোটে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডা স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের বহুত্ববাদী চেতনার একটি রূপ।

অন্যদিকে, ৫ টাকার নোটে থাকবে ‘জুলাই বিপ্লব’-এ শহীদ আবু সাঈদ ও মুগ্ধের অবয়ব, যা ঈদের পরে বাজারে আসবে। ১০ টাকার নোটে থাকবে তারুণ্যের প্রতীকী প্রতিচ্ছবি ও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম। আর ১০০ টাকার নোটে যুক্ত হচ্ছে ইউনেসকোর স্বীকৃত সুন্দরবনের চিত্রা হরিণ ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার, যা সরকার পরিবর্তনের পর নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে জানা গেছে।

৫০০ টাকার নোটে স্থান পাচ্ছে ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, “নতুন নোটের নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় কাগজ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি ঈদের আগেই কিছু নোট বাজারে আসবে।”

তিনি আরও জানান, এবারের নোটগুলোতে মানুষের পূর্ণাঙ্গ ছবি না থাকলেও, জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি, শহীদের আত্মত্যাগ এবং প্রকৃতির অনন্য নিদর্শন ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

কেন সময় লাগছে নতুন নোট আনতে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন নোট তৈরিতে ইউরোপ থেকে কাগজ ও নিরাপত্তা উপকরণ আমদানি করতে হয়। দরপত্র ও যাচাই-বাছাইসহ পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে প্রায় ৫ থেকে ৭ মাস। ফলে পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের আগেই নোট ছাড়া সম্ভব হয়নি।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৪ মার্চ প্রথম ১ টাকার মানচিত্র খচিত নোট চালু করে বাংলাদেশ। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে চালু হয় ৫, ১০, ২০, ৫০, ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট। ২ টাকার নোট চালু হয় ১৯৮৮ সালে।

নতুন নোট প্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক যেমন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সচেতনতায় নজর দিচ্ছে, তেমনি দেশের ঐতিহ্য ও সহনশীলতার বার্তাও পৌঁছে দিতে চায় সর্বস্তরের মানুষের কাছে।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও অভ্যন্তরীণ নথিপত্র)


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন