বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ঢাকায় বাসে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ—সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

রাজধানী জুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি হঠাৎই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। কোনো প্রাণহানি না হলেও নিরাপত্তা বাহিনী শহরজুড়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

সোমবার ভোরে বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিকেলে ধানমণ্ডির মিরপুর রোডে ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে আরও একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সব ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

এছাড়া দিনভর রাজধানীর অন্তত সাতটি স্থানে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। মিরপুর, ধানমণ্ডি, মোহাম্মদপুর, খিলগাঁও, বাংলামোটর ও তেজগাঁও এলাকায় মোটরসাইকেলে হেলমেট পরে আসা দুর্বৃত্তরা এসব বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ জানিয়েছে, এটি চোরাগোপ্তা হামলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, “রাজধানীতে যেকোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ অভিযান চলছে। অনুমোদনহীন সমাবেশ বা মিছিল করার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটির এক বিশেষ বৈঠকে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের অনলাইন ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে ওই দিন রাজধানীতে প্রায় ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার রাত থেকেই ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার প্রধান পথগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে, পাশাপাশি হোটেল, হোস্টেল ও আবাসিক এলাকায় অভিযান চলছে। গণপরিবহনে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

রাতে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় এনসিপি কার্যালয়ের সামনে পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সংগঠনের নেতাকর্মীরা দুজন সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন। এর আগে সকাল ৭টার দিকে মোহাম্মদপুরে কবি ও গবেষক ফরহাদ মজহারের প্রতিষ্ঠানের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ডিএমপি’র একাধিক কর্মকর্তার মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলো ‘মনস্তাত্ত্বিক আতঙ্ক’ তৈরি করার কৌশল হিসেবে চালানো হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্তে শহরজুড়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা নজরদারি চলছে।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “রাজধানীতে কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। ঢাকায় ঢোকার আগে থেকেই প্রতিটি জেলায় তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। চোরাগোপ্তা হামলা দমনেই আমাদের অগ্রাধিকার।”

এদিকে, ডিএমপি একটি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও বিচার প্রশাসন ইনস্টিটিউট এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল ও মানববন্ধন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে ‘লকডাউন’ ঘোষিত কর্মসূচির দিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় থাকবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন