রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাউজানে অস্ত্রভান্ডার উদ্ধার, বিএনপি কর্মী হত্যায় জড়িত দুইজন গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে চারটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের একটি বিশেষ দল। সোমবার ভোরে পরিচালিত এ অভিযানে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের তথ্যেই এই অস্ত্রভান্ডার উদ্ধার হয়।

গ্রেপ্তার ও অভিযানের বিবরণ

গ্রেপ্তার দুজন হলেন নোয়াপাড়া চৌধুরীহাট এলাকার আইয়ুব আলী সওদাগরের বাড়ির মুহাম্মদ শওকতের ছেলে মো. সাকিব (২০) এবং মুহাম্মদ সোবহানের ছেলে মো. শাহেদ (২৫)। তারা সম্প্রতি বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিম হত্যা মামলার আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার হন। পুলিশের দাবি, তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই রাউজানের নোয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই বিপুল অস্ত্র–গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

অস্ত্র, গুলি ও মাদক উদ্ধার

অভিযানে চারটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার, ৪২ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ১৯ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, শটগানের ১৬ রাউন্ড কার্তুজ, সাতটি খালি ম্যাগাজিন, একটি রকেট ফ্লেয়ার, দুটি রামদা, ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৫০ গ্রাম গাঁজা এবং নগদ ৯৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিম হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে।

বিএনপি কর্মী হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

গত ৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়কের মদুনাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে প্রাইভেট কারে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয় বিএনপি কর্মী আবদুল হাকিমকে। তিনি রাউজানে নিজের খামার থেকে চট্টগ্রাম শহরে ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলে আসা একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাঁর গাড়িতে গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন হাকিম এবং তাঁর গাড়িচালক ইসমাইল। গাড়িতে ২২টি গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়, আর হাকিমের শরীরে ছিল ১০টি গুলির আঘাত। ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী তাসফিয়া আলম বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন।

হত্যার কারণ ও তদন্তের অগ্রগতি

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, কর্ণফুলী নদীর পাড়ের বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরিকল্পিতভাবে দুটি দল বিভক্ত হয়ে হামলায় অংশ নেয় সন্ত্রাসীরা। এর আগে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ—আবদুল্লাহ খোকন, মুহাম্মদ জিয়াউর রহমান, মুহাম্মদ মারুফ ও মুহাম্মদ সাকলাইন। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল একটি একনলা বন্দুক ও একটি এলজি। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সর্বশেষ গ্রেপ্তার হয় সাকিব ও শাহেদ।

পুলিশের বক্তব্য ও পরবর্তী ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসএসপি) মুহাম্মদ রাসেল জানান, গ্রেপ্তারকৃত দুইজনকে থানা পুলিশের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হবে। তাঁর ভাষায়, “উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো খুনে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার দুজনও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত।” তিনি আরও বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও হত্যায় জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন