বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

রাশিয়া প্রথমবারের মতো তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দিল

রাশিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের স্বীকৃতি দিয়েছে, যা তালেবান শাসনাধীন দেশটিকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে মস্কোকে অবস্থান করে। এই পদক্ষেপ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় মস্কোর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তানের সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বিকাশের জন্য উদ্দীপনা যোগাবে।”

রাশিয়ার এই স্বীকৃতিকে “সাহসী সিদ্ধান্ত” উল্লেখ করে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি বলেন, “এখন স্বীকৃতির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আর রাশিয়া সকলের আগে এগিয়ে গেছে।” মস্কোয় রাশিয়ার আফগান রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক বৈঠকের ভিডিও বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তালেবান সরকারের প্রতি এই স্বীকৃতি ওয়াশিংটনেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিলিয়ন ডলার সম্পদ স্থগিত করেছে এবং তালেবানের কিছু শীর্ষ নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন রয়েছে আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাত।

২০২১ সালের আগস্টে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত সরকারকে পেছনে ফেলে দেশ ছাড়ে মার্কিন সেনারা। সেই ঘটনার পর থেকে মস্কো তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষ করে ইসলামী স্টেট খোরাসান প্রদেশ (আইএসকেপি) এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তালেবানকে মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে রাশিয়া।

২০২২ ও ২০২৪ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অর্থনৈতিক ফোরামে তালেবান প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। এছাড়া, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তালেবানের শীর্ষ কূটনীতিক রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে মস্কোয় বৈঠক করেন।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানকে “সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিত্র” হিসেবে আখ্যা দেন। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দেয়। লাভরভ সে সময় বলেছিলেন, “কাবুলের নতুন সরকার বাস্তবতা। আমাদের উচিত আদর্শবাদ নয়, বাস্তববাদী নীতি গ্রহণ করা।”

রাশিয়ার এই নীতিগত পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা। ১৯৮০’র দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে লড়াই করা মুজাহিদিনদের একাংশ থেকেই তালেবান গড়ে ওঠে। সেই যুদ্ধের পরাজয় সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ত্বরান্বিত করেছিল। ২০০৩ সালে তালেবানকে সন্ত্রাসী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল মস্কো। কিন্তু ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতা গ্রহণের পর রাশিয়া ও অন্যান্য আঞ্চলিক শক্তি কৌশলগত দিক থেকে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।

তালেবান সরকার এখনো কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়। জাতিসংঘ তালেবান শাসনকে “তালেবান ডি ফ্যাক্টো অথরিটি” হিসেবে উল্লেখ করছে। তবে রাশিয়ার স্বীকৃতি তালেবান সরকারের আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের প্রচেষ্টায় বড় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন