শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ইরানের তিন পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বললেন “পুরোপুরি ধ্বংস”

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় ‘সফল’ বোমা হামলা চালানো হয়েছে এবং সেগুলো “পুরোপুরি ধ্বংস” করা হয়েছে। হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পূর্ণ সমন্বয়ে কাজ করেছে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ইরানের ফোর্দো, নাটাঞ্জ এবং ইসফাহান—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে একটি জটিল বিমান হামলা চালানো হয়।

কোন অস্ত্র ও পদ্ধতিতে হামলা?

যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনের মতে, এই অভিযানে অংশ নেয় ১২৫টি যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে ছিল সাতটি বি-২ স্টেলথ বোমার। মূল আক্রমণকারী দল বিমান থেকে হামলা চালানোর আগে ইসফাহানে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও নিক্ষেপ করে একটি সাবমেরিন থেকে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আঘাত আসে ফোর্দো স্থাপনায়, যেখানে ফেলা হয় ১৪টি ‘ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনেট্রেটর’ (MOP) বোমা—যেগুলো শক্তিশালী “বাংকার বাস্টার” নামে পরিচিত। এসব বোমা প্রায় ১৮ মিটার কংক্রিট বা ৬০ মিটার মাটি ভেদ করে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম।

হামলার ফলাফল কী?

সফলভাবে তিনটি স্থাপনাতেই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে জানায় পেন্টাগন। নতুন স্যাটেলাইট চিত্রে ফোর্দো স্থাপনার পার্বত্য অঞ্চলে ছয়টি গভীর গর্ত ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকার দৃশ্য দেখা গেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) ও সৌদি আরব নিশ্চিত করেছে—হামলার পর ইরানে বিকিরণের কোনো মাত্রা বেড়ে যায়নি।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগেই এসব পারমাণবিক স্থাপনা খালি করা হয়েছিল এবং উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়নি। তবে ইরানের পরমাণু সংস্থা একে “আন্তর্জাতিক আইনের ঘৃণ্য লঙ্ঘন” বলে আখ্যা দিয়েছে।

ইরানের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য জবাব

হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান টেলআবিব ও হাইফায় একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যাতে অন্তত ৮৬ জন আহত হন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র এই হামলার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার অধিকার রাখে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান তিনভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে:

  • নীরব থাকা, তবে এতে সরকার দুর্বল দেখাতে পারে
  • তাৎক্ষণিক প্রতিশোধ, বিশেষ করে মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অথবা নৌ-যানে ড্রোন আক্রমণ
  • পরে সুযোগ বুঝে আঘাত, যখন মার্কিন ঘাঁটি সর্বোচ্চ সতর্কতায় থাকবে না

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

হামলার পর নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লেখেন, “এই হামলা ছিল একটি সতর্কবার্তা। কূটনৈতিক সমাধানে না এলে পরবর্তী হামলা আরও ভয়াবহ হবে।”

পরে হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনো বহু টার্গেট হাতে রেখেছি। শান্তিপূর্ণ সমাধানই একমাত্র পথ।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন