বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি, সংগঠন ও প্রচারণা নিষিদ্ধে বাড়তি ক্ষমতা

সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-কে আরও সময়োপযোগী ও কার্যকর করতে নতুন করে সংশোধনী এনে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারি করেছে। রোববার (১১ মে) রাতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়। সংসদ অধিবেশন না থাকায় সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ দেন। পরে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

নতুন সংশোধনীতে ধারা ১৮ এর উপধারা (১)-এ পরিবর্তন এনে বলা হয়েছে, সরকার কেবল কোনো সত্ত্বাকে নিষিদ্ধ ঘোষণাই নয়, বরং তার সমস্ত কার্যক্রমও নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে। অর্থাৎ, কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি সেই সংগঠনের কার্যক্রমও আইনি দৃষ্টিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এছাড়া ধারা ২০-এর বিভিন্ন উপধারাতে শব্দ ও ভাষাগত পরিবর্তন এনে আইনটির প্রয়োগ আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। যেমন, ‘নিষিদ্ধ’ শব্দের পরিবর্তে ‘উক্ত’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে যে কোনো সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিষিদ্ধের আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষভাবে উপধারা (১), দফা (ঙ)-তে উল্লেখ করা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষ থেকে বা সমর্থনে প্রেস বিবৃতি, মুদ্রণ, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা, সভা-সমাবেশ, মিছিল বা বক্তৃতা প্রদান সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে।

এছাড়া উপধারা (২) ও (৩)-তেও সংশোধনী আনা হয়েছে, যেখানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—যাদের বিরুদ্ধে ধারা ১৮(১) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই ব্যক্তিরা কিংবা সত্তাগুলোই এসব বিধির আওতায় পড়বে। এতে করে তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা সংগঠনের কার্যক্রম ও প্রভাব রোধে প্রশাসনিক ক্ষমতা আরও প্রসারিত হয়েছে।

আইন সংশোধনের এই পদক্ষেপকে অনেকেই সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও প্রয়োগযোগ্য করার দিক থেকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করা না গেলে তাদের প্রভাব দমন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই অধ্যাদেশ সেই দিকটি নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন