রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

সচিবালয়ে টানা তৃতীয় দিনের বিক্ষোভ, কালও কর্মসূচি চলবে

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির ডাক

প্রান্তকাল প্রতিবেদক | ঢাকা, ২৬ মে ২০২৫

‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে দিনের কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হলেও আগামীকাল (মঙ্গলবার) ফের মিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তারা।

সচিবালয়ে কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে ‘বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম’ নামে যৌথ প্ল্যাটফর্ম থেকে এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তারা দেশের সকল সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদেরও কর্মবিরতি ও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা কর্মচারী

আজকের কর্মসূচি শেষে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নতুন ভবনের নিচে আয়োজিত সমাবেশে ঐক্য ফোরামের কো-চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর বলেন, “এই কালো আইন যতদিন বাতিল না হবে, ততদিন আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা কোনো সহিংসতা চাই না, তবে অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে আপসহীন।” তিনি আগামীকাল সকাল ১০টায় সচিবালয়ের বাদামতলায় আবারও বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও জানান, অধ্যাদেশ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য আজ আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে একটি বৈঠক নির্ধারিত ছিল, তবে রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে সেটি স্থগিত হয়েছে। নতুন সময় নির্ধারণ হলে তা সাংবাদিকদের জানানো হবে।

সারাদেশে কর্মসূচির ডাক

ঐক্য ফোরামের আরেক কো-চেয়ারম্যান মুহা. নূরুল ইসলাম বলেন, “দেশের সকল সরকারি দপ্তরের কর্মচারীরা আমাদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। কাল থেকে সব জেলায় একযোগে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানাচ্ছি।”

পটভূমি: অধ্যাদেশ নিয়ে বিরোধ

গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। পরদিনই তা সরকারিভাবে জারি করা হয়। এরপর থেকেই দেশের সরকারি কর্মচারীদের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। তারা অধ্যাদেশটিকে ‘নিবর্তনমূলক’ এবং ‘কালাকানুন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে দ্রুত তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

অধ্যাদেশে কী রয়েছে?

নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী, চারটি নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ডকে সরকারি চাকরির শৃঙ্খলাভঙ্গ বা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। এগুলো হলো:

  • অনানুগত্য বা অন্যকে অনানুগত্যে উসকানি দেওয়া;
  • কর্তব্যে ইচ্ছাকৃত অনুপস্থিতি বা বাধা প্রদান;
  • কর্মস্থলে উপস্থিতি রোধে প্ররোচনা;
  • চাকরি থেকে বিরত রাখার চেষ্টা।

এই অপরাধের শাস্তির মধ্যে রয়েছে পদাবনতি, চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে মাত্র ১৪ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে দণ্ডাদেশ কার্যকর করা যাবে। তবে রাষ্ট্রপতির আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা যাবে না—শুধুমাত্র পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে।

সামগ্রিক প্রেক্ষাপট

দেশে বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন, যাদের সবাই এই অধ্যাদেশের আওতায় পড়বেন। কর্মচারীরা অভিযোগ করছেন, ১৯৭৯ সালের বিশেষ বিধানের আদলে তৈরি এই অধ্যাদেশে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার সুযোগ রাখা হয়েছে এবং এটি চাকরিজীবীদের নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে এখন সরকারের পরবর্তী অবস্থান এবং ঐক্য ফোরামের কৌশল—দুই দিকই গভীর নজরদারিতে রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন