রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভারতের স্থলবন্দরে বাংলাদেশি পোশাকসহ একাধিক পণ্যের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা, ব্যয় বাড়বে রপ্তানিতে


ভারত তাদের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পোশাকসহ বেশ কিছু পণ্যের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। শনিবার ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (DGFT) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক ও নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্য শুধুমাত্র ভারতের নাভা শেভা এবং কলকাতা সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে প্রবেশ করতে পারবে। কোনো স্থলবন্দর দিয়ে এসব পণ্য আমদানির সুযোগ থাকছে না। তবে ভারত হয়ে নেপাল ও ভুটানে রপ্তানির ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অন্যান্য পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়
  • কার্বনেটেড পানীয়
  • প্রক্রিয়াজাত খাবার
  • তুলার বর্জ্য
  • প্লাস্টিকের পণ্য (শিল্পে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট উপকরণ ছাড়া)
  • কাঠের আসবাবপত্র

এই পণ্যগুলো আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গের চ্যাংড়াবান্ধা ও ফুলবাড়ি সীমান্ত শুল্ক পয়েন্ট দিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে বাংলাদেশের মাছ, এলপিজি, ভোজ্যতেল এবং চূর্ণ পাথরের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না, অর্থাৎ এই পণ্যগুলো আগের নিয়মেই স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে প্রবেশ করতে পারবে।

ব্যবসায়িক প্রভাব:
বিশ্লেষকরা বলছেন, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ব্যয় স্থলপথের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের পরিবহন খরচ বাড়বে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, যা বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত, তা এই সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়বে।

বিজ্ঞাপন

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট:
গত মার্চে চীনের বেইজিংয়ে এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছিলেন, “ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো স্থলবেষ্টিত এবং তাদের একমাত্র সমুদ্রপথের অভিভাবক বাংলাদেশ।” সেই বক্তব্যের পর থেকেই ভারত বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে। সর্বশেষ এই নিষেধাজ্ঞা তারই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা এটিকে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন