রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

সাম্য হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, শাহবাগ থানা ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি শিক্ষার্থীদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন সহপাঠীরা। দাবি আদায় না হলে শাহবাগ থানা ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

শুক্রবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শিক্ষার্থীরা জমায়েত হয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন। বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে ছাত্রছাত্রীরা সেখানে একত্রিত হন এবং পরে সেখান থেকে শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান নেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকও। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা জানান, এই আন্দোলন কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যানারে নয় বরং সাম্য হত্যার বিচার দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গঠিত।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মুন্সী বলেন,

“সাম্যর লাশ নিয়ে অনেকে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। কিন্তু আমরা কোনো দলে নাই, আমরা শুধুই বিচার চাই। হত্যার ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে, অথচ এখনও মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার না করলে শাহবাগ থানা ঘেরাও করবো।”

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হত্যার ঘটনা ঘটার পরও তদন্তে ধীরগতি চলছে। তারা দাবি করেন, তদন্তে গাফিলতি থাকলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৩ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য। দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাম্য ছিলেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং স্যার এ এফ রহমান হলের ২২২ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র। তিনি হল ছাত্রদলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে এবং তদন্তকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি উপস্থাপন করলেও যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়, তাহলে তারা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন