চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগে তদন্ত, নিহতদের মরদেহ ফেরত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি
রাশিয়ায় চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু, নিখোঁজ হওয়া এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে না পারার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। এ ঘটনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব দাবি জানায় এইচআরএসএস।
বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে প্রতারণা করে বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়ে থাকলে তা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থার ব্যর্থতার ইঙ্গিত বহন করে।
তিন বছরে অন্তত ৫৪ বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর
এইচআরএসএস জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে রাশিয়ার যুদ্ধে অন্তত ৫৪ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি চাকরির প্রতিশ্রুতিতে নেওয়া ৩০ জনের মধ্যে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রকৃত অবস্থা, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রতারণা এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত জরুরি বলে মনে করে সংস্থাটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রবাসী নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কী পদক্ষেপ নিয়েছে এবং কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
চার দফা দাবি এইচআরএসএসের
বিবৃতিতে সংস্থাটি চারটি দাবি জানিয়েছে।
১. তদন্ত ও জবাবদিহি: নিহত ও নিখোঁজ বাংলাদেশিদের বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণ করে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। নিয়োগকারী, দালাল ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের পাশাপাশি দুই মন্ত্রণালয়কে তাদের ভূমিকা ও গৃহীত পদক্ষেপের ব্যাখ্যা জনসমক্ষে দিতে হবে। অবহেলা প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. মরদেহ ফেরত ও নিখোঁজদের সন্ধান: নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। মৃত্যুর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে হবে।
৩. পরিবারের ক্ষতিপূরণ: নিহতদের পরিবারকে প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ, বিমা, আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে।
৪. প্রতারণা প্রতিরোধ: মানবপাচার, অবৈধ নিয়োগ ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি, ঝুঁকি যাচাই ও কার্যকর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই
এইচআরএসএস বলেছে, প্রবাসীদের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা, নিখোঁজদের সন্ধান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অধিকার নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

