রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারকে ‘প্রহসন’ বললেন শেখ হাসিনা: বিবিসিকে সাক্ষাৎকারে দাবি—তিনি নির্দোষ

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘অসত্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন। লন্ডন–ভিত্তিক বিবিসিকে দেওয়া ই–মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঢাকায় চলমান বিচারটি ‘‘একটি সাজানো নাটক’’ এবং ‘‘রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নিয়ন্ত্রিত এক প্রহসনের আদালত’’।

আগামী সোমবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড–সংক্রান্ত মামলার রায় ঘোষণা করবে। এই মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লাখো বিক্ষোভকারীর ওপর দমন–পীড়ন চালানোর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন করেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে বললেন—“নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিইনি”

ই–মেইল সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন—তবে তিনি কখনোই নিরাপত্তা বাহিনীকে নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি।

তিনি অভিযোগ করেন, চলমান বিচার ‘‘আগেই সাজানো রায় ঘোষণা করবে’’ এবং তাঁকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করতেই এ আদালত গঠন করা হয়েছে।

এর আগে, বিবিসি আই–টিম যাচাই করা একটি অডিও রেকর্ডিং আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে তাঁকে ‘‘প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি’’ দিতে শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

বিচার থেকে পলায়ন ও অভিযোগের বিস্তৃত পরিসর

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারত হয়ে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। তিনি আদালতে হাজিরা দিতে দেশে ফিরে আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। মামলায় আরও অভিযুক্ত রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–মামুন। তিনজনের বিরুদ্ধেই গুরুতর অপরাধ—হত্যা, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার তদন্তকারীরা জানিয়েছিলেন, আন্দোলনে দমন–পীড়নের সময় প্রায় ১,৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

“নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ করতে পারিনি”—হাসিনা

বিবিসিকে তিনি আরও বলেন—তাঁর আইনজীবীদের আদালতে উপস্থিত হতে দেওয়া হয়নি এবং তিনি নিজে কোনো প্রতিরক্ষাও উপস্থাপন করতে পারেননি। তাঁর ভাষায়, ‘‘আমার বিরুদ্ধে বিচার নয়, বরং পুরো আওয়ামী লীগকে রাজনীতি থেকে মুছে ফেলার পরিকল্পনাই চলছে।’’

এদিকে, তাঁর আইনজীবীরা জাতিসংঘের কাছে জরুরি অভিযোগ দাখিল করেছেন—বলে বিবিসি জানিয়েছে—যেখানে বিচার প্রক্রিয়ার বৈধতা ও সুষ্ঠু বিচারের নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

গুম–খুন ও গোপন কারাগারের অভিযোগও উড়িয়ে দিলেন তিনি

সাক্ষাৎকারে তাঁর ১৫ বছরের শাসনকালে গুম, খুন, গোপন আটককেন্দ্র ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ–সংক্রান্ত প্রশ্নও তোলা হয়।

শেখ হাসিনা দাবি করেন, এসব ঘটনার বিষয়ে তিনি ‘‘অবগত ছিলেন না’।’

তাঁর বক্তব্য—যদি কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগের প্রমাণ থাকে, তবে নিরপেক্ষ তদন্তেই তার বিচার হওয়া উচিত।

আরও যেসব মামলা চলছে

মানবতাবিরোধী অপরাধ ছাড়াও দুর্নীতি–সংক্রান্ত মামলায়ও বিচারাধীন রয়েছেন তিনি এবং তাঁর সরকারের কয়েকজন শীর্ষ সদস্য। সব অভিযোগই তারা অস্বীকার করছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন