রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্তের পথে সরকার, আরপিওতে আসছে নতুন পরিবর্তন

অন্তর্বর্তী সরকার জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের খসড়ায়ও নতুন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস কয়েকজন উপদেষ্টার সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন প্রস্তুতি এবং সংস্কার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হয়।

সংস্কার বাস্তবায়নে অনড় অবস্থান

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, জুলাই জাতীয় সনদের বিষয়ে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়নে অনড় থাকবে। সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য—নির্বাচনের আগে সংস্কার-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা দূর করা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা।

গত মঙ্গলবার জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে সনদ বাস্তবায়নের জন্য সংস্কার বাস্তবায়নের রূপরেখা ও সুপারিশ জমা দেয়। এতে বলা হয়, সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ আদেশ জারি করে গণভোট আয়োজনের সুপারিশ করা হয়। গণভোটে প্রস্তাব পাস হলে, পরবর্তী সংসদকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করতে হবে।

তবে গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে—নির্বাচনের আগে না কি একই দিনে—সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।

আরপিও সংশোধনে নতুন সিদ্ধান্ত

অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন-সংক্রান্ত আইন “গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)” সংশোধনের খসড়া আবারও পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, জোটগতভাবে নির্বাচন করলে প্রার্থীরা চাইলে নিজ দলের প্রতীক বা জোটের অন্য কোনো দলের প্রতীকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন।

এর আগে ২৩ অক্টোবর অনুমোদিত খসড়ায় বলা হয়েছিল, জোটভুক্ত দলগুলোকে নিজেদের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। ওই সিদ্ধান্তে বিএনপি ও ছোট দলগুলো আপত্তি জানায়, যা শেষ পর্যন্ত সরকারের পুনর্বিবেচনার কারণ হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনায় এই সংশোধন আনা হচ্ছে, যাতে ছোট দলগুলো জোটভুক্ত নির্বাচনে অংশ নিতে পারে রাজনৈতিক বৈচিত্র্য ক্ষুণ্ণ না করে।

নির্বাচন ফেব্রুয়ারিতে, তফসিল ডিসেম্বরেই

অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে।

এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করতে পারে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

রাজনৈতিক অবস্থান ও মতভেদ

জুলাই সনদ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য অব্যাহত। বিএনপি বলছে, “অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান অনুযায়ী এ ধরনের আদেশ জারির এখতিয়ার নেই।” দলটি গণভোট আয়োজনকেও অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক মনে করে।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল নভেম্বরের মধ্যে গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।

এদিকে ন্যাশনাল কনসেনসাস পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, সরকার সনদ বাস্তবায়নে কতদূর অগ্রসর হয়—তা দেখেই তারা স্বাক্ষরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও আরপিও সংশোধন—দুই প্রক্রিয়া একসঙ্গে সামনে আসায় নির্বাচনের আগে আইনি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে অন্তর্বর্তী সরকার।

তবে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আস্থা নির্ভর করবে এই সংস্কার উদ্যোগ কতটা বাস্তবায়নযোগ্য ও স্বচ্ছ হয় তার ওপর।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন