রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশের ভূমিকা সর্বাগ্রে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

তিনি বলেন, “এ দেশের আপামর জনগণ, রাজনৈতিক দলসহ সর্বমহলের প্রত্যাশা পূরণের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এখন পুলিশের কাঁধে। বাংলাদেশ পুলিশ এমন এক মানদণ্ড স্থাপন করবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি, যা শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।”

রবিবার সকালে রাজধানীর পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ‘হল অব প্রাইড’ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ অপরাধ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বিপিএম। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপারগণ অংশগ্রহণ করেন।

উপদেষ্টা বলেন, “আইনের প্রয়োগ কেবল শক্তি দিয়ে নয়—ন্যায়, নিষ্ঠা ও মানবিকতা দিয়েও প্রতিষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী মাঠে পুলিশ কেবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নয়, তারা জনগণের নিরাপত্তা, আস্থা এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রতীক।”

তিনি পুলিশ সদস্যদের সতর্ক করে বলেন, “কেউ কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেবেন না, বিশেষ সুবিধা নেবেন বা দেবেন না, নিজেকে রাজনৈতিক কর্মী ভাবাও যাবে না।”

তিনি আরও জানান, “ফ্যাসিস্টদের তালিকা পুলিশের হাতে রয়েছে। যারা রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে, তাদের গ্রেফতারে অভিযান বাড়াতে হবে। তবে কোনো নিরীহ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন।”

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন,

“অধীনস্তদের পেশাদারিত্ব, টিম স্পিরিট, শৃঙ্খলা ও মনোবল বৃদ্ধিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। যারা কমান্ড মানে না বা রাষ্ট্রের প্রতি অসম্মান দেখায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি জেলা পর্যায়ে ঘনঘন কোর কমিটির সভা আহ্বানের নির্দেশ দেন এবং বলেন, “রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করতে হবে, মিথ্যা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।”

উপদেষ্টা বলেন, স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চকে আরও সক্রিয় করে জেলার প্রতিটি তথ্য হাতের নাগালে রাখতে হবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান ত্বরান্বিত করতে হবে এবং কেপিআইগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে।

তিনি অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি সব সংস্থাকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম বলেন,

“পুলিশের ওপর কোনো আক্রমণ বরদাশত করা হবে না। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তিনি সাম্প্রতিক সাইবার অপরাধ বৃদ্ধির প্রসঙ্গেও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তরুণ পুলিশ অফিসারদের এই অপরাধ প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপদেষ্টা পুলিশ কর্মকর্তাদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন এবং মাঠপর্যায়ের করণীয় সম্পর্কে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন