রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, আলোচনায় নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ

রাশিয়া একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে। কিয়েভ জানিয়েছে, মাত্র এক রাতেই ৫৭৪টি ড্রোন ও ৪০টি মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন এবং ট্রান্সকারপাথিয়া অঞ্চলে ১৫ জন আহত হয়েছেন।

পশ্চিমাঞ্চলেও হামলার বিস্তার

ইউক্রেনের বিমানবাহিনী বলছে, মোট ৬১৪টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানার চেষ্টা করে, যার মধ্যে ৫৭৭টি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এবার ব্যবহৃত অস্ত্রের মধ্যে ছিল হাইপারসনিক, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল। হামলার উৎস ছিল পশ্চিম রাশিয়া, কৃষ্ণসাগর এবং রাশিয়ার দখলে থাকা ক্রিমিয়া অঞ্চল।

লভিভে হামলায় একটি নার্সারি ও বেশ কয়েকটি বাসাবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে ট্রান্সকারপাথিয়ার মুকাচেভো শহরে একটি মার্কিন ইলেকট্রনিক্স কারখানায় ক্রুজ মিসাইল আঘাত করলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং বহু মানুষ আহত হয়।

শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা

এই হামলার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগী হয়েছেন। তিনি আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এরপর ওয়াশিংটনে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে।

প্রথমে ট্রাম্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিন পক্ষ একসঙ্গে আলোচনায় বসবেন। তবে পরে মত পাল্টে তিনি বলেছেন, দুই দেশের নেতারা সরাসরি বৈঠক করলে ফলপ্রসূ হতে পারে। প্রয়োজনে তিনি যোগ দেবেন।

আলোচনার ভেন্যু নিয়ে মতভেদ

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি নিরপেক্ষ কোনো ইউরোপীয় দেশে পুতিনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। তার প্রস্তাবের তালিকায় রয়েছে সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া কিংবা ইস্তাম্বুল। তবে বুদাপেস্টকে তিনি উপযুক্ত মনে করছেন না, কারণ হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

হাঙ্গেরির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য জানিয়েছেন, চাইলে বুদাপেস্ট আলোচনার জন্য ন্যায্য ও নিরাপদ পরিবেশ দিতে প্রস্তুত।

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আক্রমণ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নিয়েছে। এর মধ্যে লুহানস্ক, দোনেৎস্কসহ ডনবাস অঞ্চল এবং ২০১৪ সালে দখলকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপও রয়েছে। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা বলেছেন, ভয়াবহ হামলা প্রমাণ করেছে—যুদ্ধ থামাতে শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখা জরুরি। তবে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির ভাষায়, রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনও গঠনমূলক আলোচনায় বসার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন