শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

গণহত্যা মামলায় শেখ হাসিনাকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আদেশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঘিরে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণহত্যা–সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ‍আদালতে হাজির হতে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য ২৪ জুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেন। শুনানিকালে মামলার আরেক আসামি, সাবেক পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, পলাতক দুই আসামিকে হাজির করার প্রচেষ্টা চলমান থাকলেও এখনো সাড়া মেলেনি; সে কারণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের ‘সাক্ষাতে বা লিপিবদ্ধ ব্যাখ্যা’ দেওয়ার শেষ সুযোগ দিতে হবে। আদালত তার যুক্তি গ্রহণ করে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রমাণ প্রতিবেদন আকারে দাখিল করতে বলে।

গত ১ জুন ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে পাঁচ দফা মানবতাবিরোধী অভিযোগ আমলে নেয় এবং শেখ হাসিনা ও কামালের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। সেদিন আদালতে অভিযোগপত্র পড়ে শোনান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, আব্দুস সোবহান তরফদার ও মিজানুল ইসলাম, যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংগঠিত বৈষম্যবিরোধী গণআন্দোলন দমন করতে সরকারি বাহিনী ও সমর্থক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে সহিংস হামলা, গণহত্যা ও নির্যাতন চালায়—যার মূল দায়ীত্বে ছিলেন সে সময়ের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। ট্রাইব্যুনালের পরবর্তী শুনানিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের রিপোর্ট ও তদন্তের অগ্রগতি উপস্থাপন করা হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন