রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ: ইরানকে ঘিরে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে সম্ভাব্য কয়েক সপ্তাহব্যাপী সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই অভিযান শুরু করা হতে পারে।

রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিকল্পনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। সে কারণেই তাঁরা পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ বিপুল সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি হাজার হাজার সেনা পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। শুক্রবার মার্কিন কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছেন।

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘদিনের। গত সপ্তাহে ওমানে মার্কিন ও ইরানি কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে একই সময়ে ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে হামলার হুমকি দিয়েছেন। নর্থ ক্যারোলিনায় এক সামরিক ঘাঁটিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা করা কঠিন হয়ে উঠছে এবং প্রয়োজনে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রেসিডেন্টের কাছে সব বিকল্প খোলা আছে।

গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছিল। জুনে পরিচালিত ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে নির্দিষ্ট স্থাপনায় আঘাত হানা হয়। তবে বর্তমান পরিকল্পনা আগের তুলনায় আরও বিস্তৃত ও জটিল হতে পারে বলে কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এক কর্মকর্তা জানান, শুধু পারমাণবিক স্থাপনা নয়—ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে। ইরানের কাছে উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রয়েছে এবং পাল্টা হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা নতুন করে বৈশ্বিক কূটনীতিকে চাপে ফেলছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন